ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর নয়; এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিশ্বাস করে বিএনপি।
আজ রাজধানীর রাজারবাগ বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। শ্রী শ্রী পবন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন গুরুদাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবু যদু চন্দ্র দাস, পঞ্চায়েত সভাপতি বাবু ঠাকুর দাস, সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তব্যে হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধের সময় কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান—এমন বিভাজন ছিল না। সবার লক্ষ্য ছিল লাল-সবুজের পতাকাতলে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে মানুষকে ভাগ করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে বিশ্বাস করে। দলটির লক্ষ্য ঐক্য, সম্প্রীতি, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির দ্বিতীয় দফায় ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব নাগরিকের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার দ্বিতীয় দফায় সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তা বা রেইনবো নেশনের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন ফুলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নানা রঙের ও গন্ধের ফুল একসঙ্গে গাঁথলেই মালা তৈরি হয়। তেমনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সম্মিলনেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য প্রকাশ পায়।
হাবিবুর রশীদ হাবিব আরও বলেন, বিএনপি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন, নিরাপদে বসবাস করবেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান মর্যাদা ও অধিকার পাবেন—এটাই দলের অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতিকে শুধু স্লোগান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় কিংবা সমতল, গ্রাম কিংবা শহর—দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের মান-মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম বা বর্ণের কারণে কোনো ধরনের বিদ্বেষ, উসকানি, বৈষম্য কিংবা সহিংসতা কাম্য নয়।
দুর্গাপূজার ছুটি ও সরকারি অনুদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের মানুষ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে সরকারি অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া এবং বাংলাবান্ধা থেকে হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থেকে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, এ বছর দেশে প্রায় ৩৪ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৯ আসনের প্রসঙ্গ টেনে হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, খিলগাঁও, মুগদা ও সবুজবাগ থানার ৯৯টি পূজামণ্ডপে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন। উৎসবের আনন্দে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সব ধর্ম মানুষকে ভালোবাসা ও শান্তির শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসুন, সবাই মিলে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও বহুত্ববাদী বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে রাষ্ট্র, অধিকার ও ভবিষ্যৎ হবে সবার।
এমএস/
