সংরক্ষণ নিয়ে বড় রায় দিল কর্নাটক হাই কোর্ট। কর্নাটক রাজ্যে তপসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ বাড়ানোর ২০২২ সালের আইন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এই আইনে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষণ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি হলে তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
সোমবার কর্নাটক হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি বিভু বাখরু ও বিচারপতি কে এস হেমলেখার বেঞ্চে। আদালতের তরফে বলা হয়েছে, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ বাড়িয়ে ৭ শতাংশ হলে মোট সংরক্ষণ গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশে। যা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন। নয়া আইন যেহেতু ৫০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করছে ফলে এই আইন অসাংবিধানিক। এর জেরে রাজ্য আইনে সরকারি চাকরির সংরক্ষণ বৃদ্ধির ৪ নম্বর ধারা বাতিল করা হল।
আদালতের তরফে বলা হয়েছে, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ বাড়িয়ে ৭ শতাংশ হলে মোট সংরক্ষণ গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশে। যা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, কর্নাটক বিধানসভায় এই আইন পাশ হয়েছিল বিজেপি সরকারের আমলে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বাসবরাজ বোম্বাই। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি এই বিলে সই করেন রাজ্যপাল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগমোহন দাস কমিশন এবং বিচারপতি সুভাষ বি আদি কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল আইনটি।
অথচ ১৯৯২ সালেই এক মামলায় সংরক্ষনের সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই আইনের প্রসঙ্গ টেনেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের এই আইন সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। যদিও হাই কোর্টের এই নির্দেশে খুশি হয় কর্নাটক সরকার। উপ মুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানিয়েছেন, হাই কোর্টের এই রায় গুরুতর। রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
