চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের পর টানা ১১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।
আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবরুদ্ধ উপাচার্যের জন্য কলা, বিস্কুট ও পানি পাঠান তারা।
এর আগে সকালে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জেনারেটর কক্ষেও তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে যান উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। পরে তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবন-২-এর উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের জন্য তালা ভাঙা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ভবনে তালা দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আজ দুপুরে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী একটি বাস থামিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, উপাচার্যের নিয়োগবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি সংগঠনও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
