ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ নাকচ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচারাধীন থাকায় এবং এসব মামলায় প্রধান বিচারপতির নিজস্ব বিচারিক ভূমিকা থাকায় এ ধরনের বৈঠক অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিষয়টি সামনে আসে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা?
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরতেই তাঁরা এই সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন।
তবে সাক্ষাতের অনুরোধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা নাকচের সিদ্ধান্ত আসে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে দায়ের করা রিট পিটিশনে প্রধান বিচারপতির বিচারিক ভূমিকা থাকায় বৈঠকটি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
যেসব বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন বিরোধীরা
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয় উত্থাপনের পরিকল্পনা ছিল বিরোধী নেতাদের। এর মধ্যে রয়েছে—
-
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগ।
-
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি।
-
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সুপারিশকারী কমিটির গঠনপ্রণালি।
-
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ।
এসব বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মহাবিক্ষোভ
এদিকে সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মহাবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। এতে অংশ নিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা রাজধানীতে পৌঁছেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। জোট নেতাদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানীজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং সাত হাজারেরও বেশি আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার বিক্ষোভের চেষ্টা করা প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব দমন-পীড়ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান এবং দিল্লিতে বিরোধীদের মহাবিক্ষোভ—দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
The post রাহুলসহ বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের প্রস্তাব নাকচ ভারতের প্রধান বিচারপতির appeared first on SATV.
