মহালয়ার আগেই তারাপীঠে মা তারাকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। ষষ্ঠীর দিনও ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করা হয়। কিন্তু মূল মন্দিরের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন দেবীকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। সেই দিন সন্ধ্যারতির পর আসনে অধিষ্ঠিত হবেন মা তারা। ‘রাজরাজেশ্বরী’রূপে তাঁর আরাধনা হবে। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ রায়ের বংশধরদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি।
তারাপীঠ মন্দিরে দেবীর গর্ভগৃহ সংস্কার করা হচ্ছে। বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ হচ্ছে। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করা হচ্ছে। দিল্লি হয়ে তা তারাপীঠে না আসায় কাজে দেরি হয়েছে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মাকে ফিরিয়ে আনা হবে। নতুন বেদিতে দেবীকে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে ‘রাজরাজেশ্বরী’ রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে। ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে দেবীকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শনের পর সন্ধ্যারতি শেষে তাঁকে মূল গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এই সময়কালে মা তারাকে শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হলেও পুজো ও দর্শনে কোনও ছেদ পড়েনি। সেখানেই চলছে নিত্যসেবা। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “মন্দিরের সংস্কারের জন্য কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন পরে সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে বের করা হয়েছে। ঢোকার সময় ছিল মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে। কিন্তু বেশ কিছু সমস্যার জন্য সংস্কারের কাজ বাকি থেকে যাওয়াই মাকে গর্ভগৃহে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিনে মাতারাকে গর্ভগৃহে আনার চিন্তা-ভাবনা করি, কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। আগামী চতুর্দশীর দিন ভোর বেলায় শিব মন্দির থেকে মা তারা বিশ্রাম মঞ্চে বেরোবেন। ২৫ তারিখ সারাদিন তিনি বাইরে থাকবেন। সে দিন সন্ধ্যারতির পর মা তারা কে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে প্রবেশ করানো হবে।”
