মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর সুয়েজে দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রো।
দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পের মাধ্যমে সুয়েজ, ইসমাইলিয়া, পোর্ট সাঈদসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কায়রোতে দূতাবাসে যাতায়াতের ঝামেলা ছাড়াই নিজ এলাকার কাছাকাছি প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
দূতাবাস জানায়, প্রবাসীদের দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা প্রদান এবং দূতাবাসের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট বিতরণ, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, দূতাবাসের পত্র ইস্যু এবং বিভিন্ন নথিপত্র সত্যায়নসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পের কার্যক্রম চলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সুয়েজ খাল-সংলগ্ন এ অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কায়রো থেকে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে রাজধানীতে যাতায়াত করতে হলে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়। অনেকের জন্য কর্মব্যস্ততার মধ্যে দূতাবাসে গিয়ে সেবা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের ফলে তাদের এ ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা সহজলভ্য করা এবং তাদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ আরও জোরদার ও কার্যকর করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করাও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিজ্ঞাপন
দূতাবাসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সরকারি সেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের সঙ্গে দূতাবাসের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমআরএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
