ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাশীপুর বেদে পল্লীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘর বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থলে কালীগঞ্জ থানা ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একজনকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য থানাতে নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা ও ড্রাগন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে এ সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা সূত্রে আরো জানাযায়, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের বস্তি থেকে স্থানীয়রা একজন ড্রাগন চোরকে আটক করে। সে সময়ে চোরের স্বীকারোক্তিতে মিজান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আনে। কিন্তু তাদেরকে থানা পুলিশে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে কাশীপুর বেদে পল্লী ও স্থানীয় অধিবাসিরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ বিরোধের জের ধরেই সোমবার রাত ৯ টার দিকে বেদে পল্লীর একাংশের সরদার মনিরুল ইসলাম ও স্থানীয় অধিবাসি ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ডাকাত দলবল নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ীঘর ভাঙ্গচুর লুটপাট করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। রাতের হামলার জের ধরেই মঙ্গলবার সকালে গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় শামিম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলু ও আজিজুলসহ ৭ জন জখম হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করে। কিন্তু অবস্থা আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
হামলায় আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি ও একজনকে যশোরে রেফার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের পরও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোন পক্ষই থানাতে অভিযোগ দেয়নি। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানাতে নিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন
