একের পর এক মাওবাদীর আত্মসমর্পণ। এবার মাও ‘ডেরা’ থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ঘন জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ বড় সাফল্য পেল। উদ্ধার হল তিনটি রাইফেল, একটি রিভলভার-সহ ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ। আজ, মঙ্গলবার এই বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। অনেক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, অনেকে গ্রেপ্তার। ঝাড়খণ্ডে এনকাউন্টারে মাওবাদীদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলির পর বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীদের কার্যকলাপ সংক্রান্ত খবরের ভিত্তিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। এই অভিযানে কলকাতার এসটিএফ, বাঁকুড়া জেলা পুলিশ, ঝালদা মহকুমা পুলিশ, পুরুলিয়া জেলা পুলিশের অ্যান্টি-মাওবাদী সেল, সিআইএফ এবং সিআরপিএফের সদস্যেরা যুক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি তিনি নিজেও একাধিকবার ওই এলাকায় গিয়েছেন বলে জানান।
বান্দোয়ানের ঘন জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে ওই অস্ত্র উদ্ধার হল। তিনটি .৩১৫ বোরের বোল্ট অ্যাকশন রাইফেল, একটি .৩৮ বোরের রিভলভার এবং ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ মিলেছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি দূরপাল্লার এবং যথেষ্ট ধ্বংসাত্মক। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলে আরও অস্ত্র লুকনো রয়েছে বলে অনুমান। সেগুলিরও সন্ধান চলছে। আগামী দেড়মাসের মধ্যে আরও অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে। এমনই প্রশাসনের তরফে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে মদন, রবি ও মীরা নামে তিন মাওবাদী গ্রেপ্তার হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই কিছু সূত্র মেলে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছিলেন ঝালদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গৌরব ঘোষ। সেই সূত্র ধরেই বান্দোয়ান ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়। ওইসব অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হল। এগুলি প্রাক্তন মাওবাদী ক্যাডারদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র। এমনই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
