ভূমিপুজোয় সুমনা, লকেটরা।
Published on
:
2 min read
কলকাতা বন্দরের চাপ কমাতে বলাগড়ে হবে মিনি বন্দর। সোমবার, দুর্গাপুজোর দ্বিতীয়ায় সংযোগকারী রাস্তার ভূমিপুজো হলো। কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের ভার কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার বলাগড়ে মিনি বন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরে এসে প্রধানমন্ত্রী তার শিলান্যাস করেন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আবহে হলো ভূমিপুজো। সোমবার মিনি বন্দরের রাস্তা ও ব্রিজ তৈরির কাজের সূচনা হয়। অসম রোডের পাশে বারুইপাড়ায় ভিত পুজো হয়েছে। ভূমিপুজোর উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার, হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি,পূর্ত দপ্তর ও পোর্ট ট্রাস্টের অফিসাররা।
হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর চরে তৈরি হবে মিনি বন্দর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৬ সালে সিইএসসির বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার জন্য জমি নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে পোর্ট ট্রাস্টেরও কিছু জমি রয়েছে। প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছিল। তৈরি হয় ব্রিজ, রাস্তা। তবে ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেই ব্রিজ, রাস্তা ধুয়ে যায়। এর পরে বাতিল হয় বিদ্যুৎ প্রকল্প।
এক নজরে
প্রকল্পের খরচ: বলাগড়ের মিনি বন্দর প্রকল্পে মোট প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকাঠামো: তৈরি হবে প্রায় ৪ কিলোমিটার সংযোগকারী রাস্তা, ব্রিজ, পোর্ট টার্মিনাল ও দু’টি জেটি।
কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা: প্রকল্পের কাজ দু’বছরের মধ্যে শেষ করার আশার কথা জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।
কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, প্রত্যক্ষ ভাবে প্রায় ১,৫০০ জন এবং পরোক্ষ ভাবে ১৫–২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২৫ বছর ধরে সেই জায়গা পড়েছিল। সেখানেই এ বার গড়ে উঠবে মিনি বন্দর। শ্রীপুরে গঙ্গা প্রাকৃতিক ভাবেই বন্দরের উপযোগী। গঙ্গা থেকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি খাড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে আবার গঙ্গায় মিশেছে। মাঝে যে চর রয়েছে, সেখানেই হবে বন্দর। জাহাজ আসবে, পণ্য ওঠানামা করবে। বদল আসবে এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থারও।
বলাগড় মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। সেখানে এই মিনি বন্দর তৈরি হলে, কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশায় বলাগড়বাসী। পাশাপাশি বলাগড়ের গঙ্গা ভাঙন রোখা যাবে বলেও আশাবাদী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
৫৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প
৯০০ একর জমি
৪ কিলোমিটার রাস্তা
সময় লাগবে ২ বছর
তৈরি হবে রাস্তা, ব্রিজ
বাড়বে রেল যোগাযোগ
প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু মিশ্র বলেন, ‘এখানে মিনি পোর্ট তৈরি হবে, তার যে সংযোগকারী রাস্তা, সোমবার তারই ভিত পুজো হলো। আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এখানে একটা পোর্ট টার্মিনাল তৈরি হবে, দু’টো জেটি তৈরি হবে। পোর্ট এরিয়ার সংযোগকারী রাস্তা তৈরি হচ্ছে। সমস্ত জমি আমাদের হাতে আছে। এই প্রজেক্টের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার ডাকা হয়ে গিয়েছে। মোট ৫৪০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট। প্রত্যক্ষ ভাবে দেড় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষ ভাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে একটা বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্বোধন করেছেন। এটা পরিবর্তনের সরকার। আগামী দু’বছরের মধ্যে বা তার আগেই কাজ শেষ হবে। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এখানে জমি অধিগ্রহণের কোনও বিষয় নেই। কারণ এটা সরকারি খাস জমি, সেই জমির উপরেই হচ্ছে। কোনও সমস্যা নেই। বলাগড়ের সবাই সহযোগিতা করছেন।’
হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন সরকারের এখনও ৬ মাস বয়স হয়নি। তার আগেই এই কাজ হচ্ছে। ৫৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যাঁরা বাইরে কাজ করছেন, তাঁরা ফিরে আসবেন। পোর্টের মাধ্যমে রেল, জলপথ ও সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি হবে। চার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। ৯০০ একর জমি নিয়ে এই পোর্ট তৈরি হচ্ছে। দু’ বছরের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে।’
জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরি জানান, এই বন্দরে কার্গো শিপ আসবে, কন্টেনার বোঝাই জাহাজ আসবে। এই বন্দর এই জেলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।