চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কটির ফরিদগঞ্জ অংশের বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানে স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে প্রতিনিয়ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে মহাসড়কটির ফরিদগঞ্জ অংশ এখন যেন এক সাক্ষাৎ ‘মৃত্যুর ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এ করুণ অবস্থার মূল কারণ কাজের নিম্নমান। নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ঢিবির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় সূত্র ও পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ছয় মাসে এই বিপজ্জনক সড়কে প্রায় ২০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ।
সড়কের কয়েকটি স্থানকে অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চালক ও পথচারীরা। এর মধ্যে ধানুয়া বাজার, ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা, কালির বাজার চৌরাস্তা, পূর্ব বড়ালী ব্রিজ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক, খেজুরতলা, গৃদকালিন্দিয়া এবং বর্ডার বাজার এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্থানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
যানবাহন চালক আশিকুর রহমান, মোবারক হোসেন ও জয়নাল আবদিন জানান, ‘রাস্তার বিশাল গর্তের কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে গাড়ি চালাতে হয়। অনতিবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার করে আমাদের নিরাপদ চলাচলের সুব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’
গৃদকালিন্দিয়া কলেজের শিক্ষক মো. ফরিদ আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির করুণ দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনতিবিলম্বে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’ এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ান রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’ জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে এ মহাসড়কটি টেকসই সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
