বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ায় সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি পিএইচপিতে (হাইপারটেক্সট প্রি-প্রসেসর) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট তৈরিতে পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট তৈরিতে এই প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঝুঁকির বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরে ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত চালু করতে আইটি টিম কাজ করছে।
অ্যানালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী সুমিত সাহা মনে করেন, পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালানো সম্ভব। তিনি বলেন, প্রোগ্রামিং স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনের মেমোরির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে সেখান থেকে ডেটাবেজ পর্যন্ত পৌঁছানো যেতে পারে। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর ডেটা, আর হ্যাকাররা সাধারণত এই ডেটাকেই লক্ষ্য করে। ডেটার নিয়ন্ত্রণ পেলে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সুমিত সাহা জানান, সমস্যা শনাক্তের পর দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ (সুরক্ষা হালনাগাদ) প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে প্রোগ্রামিং ভাষা ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি দেশের ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট দেখভাল করে। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, এসব ওয়েবসাইট পিএইচপিভিত্তিক নয়। ফলে পিএইচপির বর্তমান নিরাপত্তা দুর্বলতা এগুলোতে নেই। তাই আপাতত এসব ওয়েবসাইট নিয়ে ঝুঁকি দেখছেন না তিনি।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর, তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা প্যাচের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এদিকে সরকারি যেসব সিস্টেম তৈরিতে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।
বিআলো/শিলি