চট্টগ্রামে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজার থেকে অভিনব কায়দায় চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারকালে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের চালানসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
আরও পড়ুন
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, মাদকের একটি বড় চালান কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটির একটি দল জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ সংলগ্ন সরকারহাট গরুর বাজারের মেসার্স পেতান শাহ স্টোর অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স দোকানের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় এসআরবি।
অভিযানের একপর্যায়ে কক্সবাজারমুখী একটি নম্বরবিহীন সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এ সময় সিএনজিতে থাকা চালক ও যাত্রীদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে এসআরবি সদস্যরা তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক ও তার সঙ্গে থাকা যাত্রী স্বীকার করেন যে, গাড়ির চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ২৮ হাজার ৫৩০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটিও। জব্দ করা এই ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, অটোরিকশাচালক মো. সাকিব (১৯) এবং তার সহযোগী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম (২০)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দুজনেরই বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে চট্টগ্রামে মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন।
এদিকে, একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া বাইন্যপুকুর পাড় এলাকায় আরেকটি পৃথক চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-৭-এর আরেকটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল চারটা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ‘মারসা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস থামানো হয়। বাসে তল্লাশিতে মিলল আরও ৯ হাজার ইয়াবা।
পরে বাসটিতে যাত্রীবেশে থাকা মো. ফরহাদ-উজ-জামান জয় (৩৪) নামের এক সন্দেহভাজন যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৬২০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. ফরহাদ-উজ-জামান জয়ের বাড়ি পটিয়া উপজেলার পূর্ব মনসা এলাকায়। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৭ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জব্দ ৩৮ হাজার ১৫০টি ইয়াবা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনোয়ারা ও চন্দনাইশ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
আতিক/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
আজ যেসব এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সিলেটের কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে আজ (২২ অক্টোবর)। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা জানিয়েছে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিউবোর জৈন্তাপুর উপকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সিলেট বিউবোর আওতাধীন জৈন্তাপুর উপকেন্দ্র থেকে জাফলং পর্যন্ত এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হবে। এ কারণে ১১ কেভি তামাবিল, চাংগিল ও জাফলং ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেট বিউবো কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে এ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সালমান/
আরও পড়ুন
নজরুল-সুইটির মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল?
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে- তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নজরুলের পরিবার। নজরুল ও সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদেরকে নবদম্পতি এবং হানিমুনে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন পোস্টে প্রচার করা হয়। এ ছাড়া স্ত্রীর কপালে চুমু দেওয়ার অপরাধে তাদের দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও ফেসবুকের একাধিক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নজরুল সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন এবং সুইটি তার স্ত্রী নয় বলে দাবি করেছেন তার মা রহিমা বেগম। এ ছাড়া নজরুল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তিনি ন্যায়বিচার ও আইনি সহায়তা পাননি বলেও দাবি করেন তার মা।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নজরুল ছিলেন বড়। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান নজরুল। সেখানে মক্কা নগরীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পান তিনি।
আরও পড়ুন
নজরুলের স্বজনরা জানান, সৌদি আরব যাওয়ার বেশ কয়েক মাস পরই কোনো একটি কারণে গ্রেপ্তার হন নজরুল। কারাগারে যাওয়ার এক মাস পর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘সৌদি আরব যাওয়ার পর প্রতিদিনই বাড়িতে ফোন করত নজরুল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রায় এক মাস তার কোনো খোঁজ ছিল না। একদিন ফোন করে জানায় সে জেলে আছে। তবে কী কারণে জেলে, সে বিষয়ে কিছু জানে না বলেছিল। একদিন সে কাজে যাওয়ার সময় পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞেস করে সে নজরুল কিনা। এরপর তাকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু কী অপরাধে তাকে ধরে নিয়ে গেছে- সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।’
তিনি বলেন, ‘নজরুল বিবাহিত ছিল না। আমরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর শুনছি যে তাকে অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য এই সাজা দিয়েছে। কিন্তু ওই মেয়েকে আমরা চিনি না। নজরুলও কখনো ওই মেয়ের কথা আমাদের বলেনি। যদি ওই মেয়েকে সে বিয়ে করত, তাহলে আমরা অবশ্যই জানতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে তো আরবি ভাষাই বুঝে না। ও তো বোঝাতে পারেনি যে ও নির্দোষ। সৌদিতে বাংলাদেশের দূতাবাসও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমরাও বুঝতে পারিনি কীভাবে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে।’
রহিমা বেগম আরও বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম তিন বছরের বেশি হয়ে গেছে জেলে আছে। হয়তো পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। পাঁচ বছর পরে ছেড়ে দেবে। আমি তো জানি না যে, আমার ছেলে আমার বুকটা খালি করে চলে যাবে। আমি এখন আমার ছেলের লাশটা চাই। শেষবার আমার ছেলেকে ছুঁয়ে দেখতে চাই।’
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে একটি মসজিদ কম্পাউন্ডে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের শিরশ্ছেদ করা হয়। নজরুলের শিরশ্ছেদের খবর পাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ অক্টোবর রাতেই তার ফুফু আবেদা বেগম মারা যান।
আরও পড়ুন
সোনারগাঁয় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিহত জহির ফকির। ছবি: খবরের কাগজ
-->নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় প্রতিপক্ষের হামলায় জহির ফকির নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলা চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তাকে কুপিয়ে ফেলে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবদল নেতা আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে ও একই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি।
আরও পড়ুন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে অন্তত ১৫-২০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, কালাপাহাড়িয়া এলাকার মুবারক নামের এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। কালাপাহাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় মুবারক পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি, তার মামার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহির যুবদলের ত্যাগী নেতা ছিল। তার বাসা কালাপাহাড়িয়া হলেও সে মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতো। হঠাৎ খবর পেলাম ১৫-২০ জনের কোনো একটা গ্রুপ তাকে হত্যা করেছে। ছেলেটা প্রায় সময় আমাকে বলতো যে তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু কে বা কার সঙ্গে ওর দ্বন্দ্ব ছিল তা নিশ্চিত হতে পারিনি। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি এমন খবরে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, আমরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছি। তদন্ত করে বিস্তারিত বলা সম্ভব।
ইমরান হোসেন/অন্তরা/
আরও পড়ুন
মাধবদীতে ডাইং মিলে বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ ২
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ডাইং মিলে বয়লার বিকল হয়ে অগ্নিকাণ্ডে দুই টেকনিশিয়ান দগ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
প্রথমে মাধবদী বাজার ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. রায়হানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলে। পরে তাদের সঙ্গে সদর থেকে আরও ইউনিট যোগ দেন।
আরও পড়ুন
নরসিংদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শিমুল মো. রফি (পিএফএম) জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আমারা আসার আগেই এ ঘটনায় দগ্ধ দুই টেকনিশিয়ানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মিলটির বয়লার বিকল হয়ে যায়। পরে মিলের মালিক ইকবাল হোসেন নিজের টেকনিশিয়ানদের ডেকে নিয়ে সেটি মেরামতের করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ থেকে ১২ জন আহত হন বলে দাবি তাদের। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে টেকনিশিয়ান ফয়সাল আহমেদ ও রুবেল মিয়া বেশি দগ্ধ হয়েছেন।’
আগুনে দগ্ধ প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহম্মেদ জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে বয়লারে লিকেজ দেখা দিলে তিনি পাশের মিল থেকে আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে যান। এ সময় সেখানে মিলের মালিক ইকবাল হোসেনও ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখায় তিনিও আহত হন ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা।
নরসিংদী জেলা বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মিলমালিকদের সচেতন করার চেষ্টা করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। মাধবদী শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদও দূষণে ভরপুর। অথচ অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভাতে এ নদীর পানিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। মাধবদী শিল্পাঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পুলিশ উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডে আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।’
শাওন খন্দকার/অলি/
