আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগানের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এবার নতুন বিতর্ক। দুর্ঘটনায় মৃতদের চোখ চুরি করে নেওয়া হয়েছে, সমাজমাধ্যমে এমনই একটি দাবি করে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কলকাতা পুলিশের দাবি, ভিডিওটি আদতে ২০২৫ সালে বারাসত মেডিকেলে এক যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের অভিযোগের। পুরনো সেই ভিডিয়োকেই চোরবাগানের দুর্ঘটনার সঙ্গে জুড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় কোচবিহার থেকে আইনুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজনের কথোপকথনের সূত্রও মিলেছে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল। তবে সেই যোগাযোগের সঙ্গে ভিডিও ছড়ানোর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত তাপুরহাটের বাসিন্দা আইনুল হক সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করেন, চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতদের চোখ চুরি করে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে এক মহিলাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ জানাতে দেখা যায়। কিন্তু তদন্তে দেখা গিয়েছে, ভিডিওটি চোরবাগানের ঘটনার নয়, বরং ২০২৫ সালে বারাসত মেডিকেলে এক যুবকের মৃত্যুর পরের ঘটনা। সেই সময় মৃত যুবকের পরিবারের তরফে চোখ চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় ফেরার পথে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়ি আটকে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। পুলিশের অভিযোগ, সেই পুরনো ভিডিওকেই চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবারের বক্তব্য বলে প্রচার করা হয়েছে। অথচ চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত কোনও ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এমন অভিযোগ করেননি বলে দাবি লালবাজারের। ফলে ভিডিওটি ঘিরে ছড়ানো খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানান, আইনুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজনের কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে। তবে সেই কথোপকথনের পরেই ভিডিওটি তৈরি বা ছড়ানো হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই যোগাযোগের প্রকৃতি এবং চোরবাগান কাণ্ডের সঙ্গে তার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
আইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি দল কোচবিহারে যাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর পরিচয়পত্র-সহ অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে কলকাতা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। আইনুল হকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(৩) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বাংলাদেশের কয়েকজনের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি সামনে এলেও তার সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সম্পর্ক এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে কলকাতা পুলিশ। কুনাল আগরওয়ালের দাবি, সমাজমাধ্যমে মৃতের সংখ্যা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অথচ পুলিশের হেল্পলাইনে যাঁরা ফোন করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হয়েছে। হাসপাতালগুলির কাছ থেকে মৃতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যও জানানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
