ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম। পাঁচ বছরে পর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দ্বিগুন হবে এমন পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩২ টাকা। আশা করছি, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ৬৩ টাকা উন্নীত হবে। এতে কোম্পানির পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডাররাও বেশ লাভবান হবেন।
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে কোম্পানিটির রোড শোতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এতে উপস্থিত ছিলেন বিনিয়োগকারীসহ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের সমানেই কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আগামী পাঁচ বছরের কোম্পানিটির আয় কী রকম থাকবে, একইসঙ্গে সামনের দিকে কী রকম হতে পারে সেই প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে কোম্পানিটির প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় হতে পারে। পরে সেটা থেকে ক্রমাগত বেড়ে ২০২৩০-৩১ অর্থবছরে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি যাবে।
ইমরান করিম বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কোম্পানিটির কারেন্ট ভ্যালু প্রায় দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আশা করছি, ২০২৩০-৩১ অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকার কাছাকাছিতে যাবে।
পাঁচ বছরে পর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দ্বিগুন হবে এমন পূর্বাভাস দিয়ে ইমরান করিম বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩২ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৩ টাকা। সামনের দিকে আয় আরও মুভ করবে। সেই অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ৬৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চাই জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, প্রজেক্টের চার বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এই টাকার ২৫ শতাংশ ইকুইটি এবং ৭৫ শতাংশ ডেট নিয়ে প্রজেক্টটা এক্সিকিউট করবো। ২৫ শতাংশ ইকুইটি মানে এক হাজার কোটি টাকা। এই এক হাজার কোটি টাকা থেকে পুঁজিবাজার থেকে তুলবো ৪০০ কোটি টাকা। বাকী ৬০০ কোটি টাকা কোম্পানির অপারেশনাল ক্যাশ থেকে কোম্পানি দেবে (ইকুইটি পারপাস)।
২০০০ সালে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের যাত্রার পর, এটি ক্রমান্বয়ে অবকাঠামো, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম, রং, ব্যাটারি, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের প্রসারিত করেছে জানিয়ে কোম্পানির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, ২০০০ সালে এশিয়ান পেইন্টস এবং ২০১১ সালে কনফিডেন্স ব্যাটারিজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রুপটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে। পরে ২০১৭ সালে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কনফিডেন্স গ্রুপ দেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে নতুন ভূমিকা রাখে। এখন কোম্পানিটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ৪০০ মেগাওয়াট, যা কনফিডেন্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক খাতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ পথ চলায় এবিবি, সিমেন্স, রোলস রয়েস, ম্যান এবং জিই পাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করেছে। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির আইপিও কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের দীর্ঘ শিল্পযাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য কেবল ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূল্য সৃষ্টি করা।
চারটি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম বলেন, চার প্ল্যান্টের অবস্থান হচ্ছে—দুটি বগুড়ায়, একটি রংপুরে এবং একটি চট্টগ্রামে। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে বড় আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার)। প্রতিষ্ঠার ৫ বছরের মধ্যে এবং কাজ শুরুর ২ বছরের মাথায়—আমরা সফলভাবে এই চারটি পাওয়ার প্ল্যান্ট (সহায়ক অবকাঠামোসহ) চালুর ব্যবস্থা করেছি। আমাদের চুক্তিগুলোর মেয়াদ ১৫ বছর মেয়াদী। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে জার্মানির বিশ্বখ্যাত ম্যান ইঞ্জিন, যা আমাদের নির্ধারিত সক্ষমতায় ইনস্টল করা রয়েছে। পাশাপাশি আমরা আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে কো-জেনারেশন সিস্টেম যুক্ত করেছি। সবকিছুর সম্মিলিত ফলাফল হলো—একটি অত্যন্ত দক্ষ ও বিশ্বমানের পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে।
আমাদের দুটো দারুণ অর্জনের গল্প রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যার মধ্যে একটি নিয়ে আমরা একটু বেশিই গর্ব করি। গল্পটি হলো—এই প্ল্যান্টগুলোর ইঞ্জিন ব্লকগুলো ছিল বিশাল, একেকটির ওজন ছিল প্রায় ৩৮০ মেট্রিক টন! এগুলোকে আমাদের বগুড়ার প্রজেক্ট সাইটে নিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সরাসরি কোনো নদীপথ না থাকায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল এই ইঞ্জিনগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে সাইটে পৌঁছানো। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদের সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশে বিশাল লজিস্টিকস টিম কাজ করেছে। এমনকি পথ সুগম করতে বেশ কিছু জায়গায় আমাদের নিজেদেরই ব্রিজ বা সেতু তৈরি করতে হয়েছে।
ইঞ্জিনটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি ও সংযোজন করা হয়েছিল—সেটি ছিল আমাদের জন্য একটি বড় ক্যাপাসিটি বিল্ডিং (দক্ষতা বৃদ্ধি), যা প্রথমদিন থেকেই আমরা অর্জন করেছি এবং আজ পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি প্ল্যান্টের টিম এই অভিজ্ঞতা বহন করে চলেছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: পুঁজিবাজার
১৫ অক্টোবর ২০২৬
০১ অক্টোবর ২০২৬
১২ আগস্ট ২০২৬
