সৌর গাড়ি উৎপাদন করছে অ্যাপটেরা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌরশক্তি চালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (এসইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপটেরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম গাড়ি উৎপাদনের জন্য এখন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন। মাত্র সাত সপ্তাহ আগেও তারা গাড়ি তৈরির জন্য ৪ কোটি থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।
আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গাড়িটির মূল নকশা ও প্রযুক্তি প্রশংসা কুড়িয়েছে। দুই আসনের তিন চাকার এই বৈদ্যুতিক গাড়ির গায়ে যুক্ত রয়েছে অত্যন্ত কার্যকর সোলার প্যানেল। ট্যুফ রাইনল্যান্ডের পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোদে এই প্যানেলগুলো প্রতিদিন ৪ দশমিক ৭৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে। বাহ্যিক কোনো প্লাগ-ইন বা চার্জ ছাড়াই শুধু এ শক্তিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মাইল পথ চলা সম্ভব।
চলতি বছরের জুনে আপেটের ‘কনফরমিটি সার্টিফিকেট’ অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রথম ৪০টি গাড়ির বডি ও চেসিস তৈরির ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার ৩০০টি গাড়ি অগ্রিম বুকিংয়ের আবেদন জমা পড়েছে। উৎপাদনের জন্য আর্থিক চাহিদা কমার খবরটি ইতিবাচক মনে হলেও পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঘোষণার পর অ্যাপটেরার শেয়ারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে। এতে বর্তমানে এই সৌর গাড়ি স্টার্টআপটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯ লাখ ডলারে।
চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে কার্লসবাদ কারখানায় কম পরিসরে উৎপাদন শুরু করতে ৪ কোটি থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল অ্যাপটরা। আর বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১৪ থেকে ১৬ কোটি ডলার। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ অনেকটা কমানো হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কাজ শুরু করতে আড়াই কোটি ডলার লাগবে, যা দিয়ে ২০২৬ সালের শেষের দিকে প্রথম ৪০টি গাড়ি তৈরি করা হবে। এরপর প্রতি মাসে ৫০০টি গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে লাগবে আরও ৪ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি এই অবস্থাকে আত্মনির্ভরশীল পর্যায় হিসেবে দেখছে। আর বছরে প্রায় ২০ হাজার গাড়ি উৎপাদনের বড় পরিকাঠামো তৈরি করতে লাগবে আরও ৫ কোটি ডলার।
সব মিলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন মোট ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রয়োজন হতে পারে, যা আগে ছিল ১৮ থেকে ২০ কোটি ডলার। অ্যাপটেরা জানিয়েছে, উৎপাদনের নকশায় পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সংযুক্তি এবং প্রাক্কলিত খরচের আধুনিকায়নের ফলে এ ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রধান নির্বাহী ক্রিস অ্যান্থনি জানান, এটি গ্রাহকদের হাতে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়। তহবিল প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে গ্রাহকদের কাছে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অ্যাপটেরার আর্থিক পরিস্থিতি এখনো সংকটাপন্ন। গত জুনের শেষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংকে জমা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ডলার। গত জুলাইয়ে এক ওয়ারেন্ট চুক্তির মাধ্যমে তারা আরও ৬০ লাখ ডলার সংগ্রহ করে। এছাড়া ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি ঋণ সুবিধা থাকলেও শেয়ারের নিম্নমুখী বাজারে তা তুলতে গেলে নতুন করে শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ফলে আড়াই কোটি ডলার সংগ্রহ করাও স্টার্টআপটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
সাশ্রয়ী দামে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিসান পিক্সো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
নিসান পিক্সো। ছবি: সংগৃহীত
-->জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিসান তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে। শহর এলাকায় সহজে চলাচলের উপযোগী এই গাড়ির মডেল ‘নিসান পিক্সো’। একবার পুরোপুরি চার্জ দিলে গাড়িটি প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। শুরুতে ২৫ হাজার মার্কিন ডলারের কম দামেই পাওয়া যাবে গাড়িটি।
২০১৩ সালে বাজেট সাশ্রয়ী ছোট গাড়ি তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিল নিসান। দীর্ঘদিন পর তারা আবারও ‘পিক্সো’ নাম ফিরিয়ে এনেছে। ইউরোপের মিনি গাড়ির বাজারে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে নিসানের এই উদ্যোগ। বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বিওয়াইডি ও লিপমোটরের মতো চীনা নির্মাতাদের কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বেশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ভক্সওয়াগেন ও রেনোর মতো ইউরোপীয় পুরোনো নির্মাতারাও আইডি পোলো এবং ডাসিয়া স্প্রিংয়ের মতো নতুন ইভি আনছে। এবার এই প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলো নিসান।
ফরাসি প্রতিষ্ঠান রেনোর সঙ্গে যৌথভাবে পিক্সো ইভি তৈরি করেছে নিসান। নতুন গাড়িটির মূল কাঠামো রেনো টুইঙ্গোর মতোই। এতে ২৭ দশমিক ৫ কিলোওয়াট আওয়ারের লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ইউরোপে নিসানের কোনো ইভিতে এটিই প্রথম এলএফপি ব্যাটারি। ৫০ কিলোওয়াটের ডিসি ফাস্ট চার্জার দিয়ে গাড়িটি মাত্র ২৮ মিনিটে ১৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।
নিসানের মতে, এই গাড়ি এমন চালকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা শহরের রাস্তায় চালানোর জন্য ছোট আকার, ভেতরে যথেষ্ট জায়গা ও আধুনিক সুবিধার সাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজছেন। নতুন গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৭৯৬ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৭৯০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৫১২ মিলিমিটার। হুইলবেস ২ হাজার ৪৯২ মিলিমিটার। আকারের দিক থেকে এটি রেনো টুইঙ্গো ও হুন্দাই ইনস্টারের প্রায় সমান।
প্রাথমিক স্তরের মডেল হলেও এতে স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং, লেন-কিপিং অ্যাসিস্ট এবং ই-প্যাডেল প্রযুক্তির মতো উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। গুগল ও জেমিনাই প্রযুক্তিও বিল্ট-ইন রয়েছে এতে। ফলে মাইনিসান অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম রুট প্ল্যানিং ও চার্জিংয়ের মতো উন্নত নেভিগেশন সুবিধা পাওয়া যাবে।
গাড়িটির নকশা নিসান করলেও এর উৎপাদন হবে স্লোভেনিয়ায় রেনোর নভো মেসতো কারখানায়। সম্প্রতি নতুন এই ইভি উন্মোচনের পর নিসান এএমআইইওর চেয়ারপারসন ম্যাসিমিলিয়ানো মেসিনা বলেন, জ্বালানি খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর যৌক্তিকতাও বাড়ছে। নিসান এই পরিবর্তনের একদম কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
আসছে টয়োটা করোলা ইভি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
টয়োটা করোলা ইভি। ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রেতা গাড়ি হিসেবে পরিচিত টয়োটা করোলা এবার নতুন রূপে আসছে। জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের জনপ্রিয় এই গাড়ির বৈদ্যুতিক (ইভি) সংস্করণ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৯৬৬ সালে বিক্রির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি করোলা গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ বিক্রীত গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এখন পর্যন্ত এই গাড়িটি মোট ১২ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। তবে আসন্ন নতুন সংস্করণটি আগের মডেলগুলোর তুলনায় দেখতে ও চালনার অভিজ্ঞতার দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। প্রায় এক বছর আগে জাপান মোবিলিটি শোতে টয়োটা তাদের নতুন করোলা গাড়ির একটি কনসেপ্ট সবার সামনে তুলে ধরে।
সে সময় টয়োটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কোজি সাটো উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, করোলা কীভাবে আরও উন্নত হওয়া উচিত। এরপরই জাপানি এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গাড়িটিতে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে চমৎকার নতুন নকশা, আধুনিক প্রযুক্তির কেবিন ও প্ল্যাটফর্ম।
বর্তমান করোলা গাড়িতে যে টিএনজিএ-সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়, নতুন গাড়িতেও হয়তো সেটিই থাকবে। তবে টয়োটা এই প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এর ফলে গাড়িটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণসহ সব ধরনের ইঞ্জিন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবে।
জাপানি গণমাধ্যম এনএইচকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টয়োটার বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সাবেক সিইও আকিও টয়োডা জানান, নতুন প্রতিযোগিতার মুখে টিকে থাকতে তারা বাধ্য হয়ে পরিবর্তন আনছেন। তা না হলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
টয়োটা এখন পর্যন্ত অধিকাংশ তথ্য গোপন রাখলেও ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের এই করোলা পেট্রল, হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণে বাজারে আসবে।
টয়োটার প্রকৌশলীরা জানান, হাইব্রিড সংস্করণে নতুন ১ দশমিক ৫ লিটারের চার সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হবে। এগুলো একত্রে প্রায় ১৩৪ হর্সপাওয়ার শক্তি দিতে সক্ষম। নতুন হাইব্রিড ব্যবস্থাটি বর্তমান সংস্করণের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া এতে অল-হুইল ড্রাইভ (এডব্লিউডি) সংস্করণ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
টয়োটা এই প্রথম প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক করোলা মডেল বাজারে আনতে চলেছে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলে বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে। ফলে গাড়িটি ব্যাটারির সাহায্যে অনেক বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
টয়োটার এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি সিঙ্গেল ও ডুয়েল মোটর সংস্করণে পাওয়া যেতে পারে। একবার চার্জ দিলে গাড়িটি অন্তত ২৫০ মাইল পথ চলতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে গাড়িটি কবে নাগাদ আসবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি টয়োটা।
সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের মডেল হিসেবে ২০২৭ সালের যেকোনো সময়ে নতুন এই করোলা আত্মপ্রকাশ করতে পারে। গাড়িগুলো বাজারে আসার আগে দামের বিষয়টি জানা যাবে। তবে সংবাদমাধ্যম কার অ্যান্ড ড্রাইভারের তথ্য অনুযায়ী, পেট্রল সংস্করণের দাম প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে শুরু হতে পারে। হাইব্রিড সংস্করণের দাম হতে পারে প্রায় ২৭ হাজার ডলার। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িগুলোর দাম ৩০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
উৎপাদনের পথে বিএমডব্লিউর হাইড্রোজেন গাড়ি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ হাইড্রোজেন চালিত প্রযুক্তির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তাদের নতুন প্রজন্মের আইএক্স৫ হাইড্রোজেন গাড়ি নিয়ে বাস্তব সড়কে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়িটির ফুয়েল সেল ব্যবস্থা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিএমডব্লিউ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের হাইড্রোজেন প্রোটোটাইপ গাড়িগুলো বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত হাইড্রোজেন কমপিটেন্স সেন্টারে তৃতীয় প্রজন্মের ফুয়েল সেল সিস্টেমের নতুন সংযোজন পর্ব শুরু হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতের উৎপাদনের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রিয়ার স্টায়ার শহরের ইঞ্জিন কারখানায় প্রয়োজনীয় উৎপাদন সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। সমান্তরালে চলা এই কার্যক্রমগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিএমডব্লিউর প্রথম হাইড্রোজেন চালিত গাড়িটিকে উৎপাদনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।
বিএমডব্লিউ গ্রুপের হাইড্রোজেন ভেহিকেল বিভাগের প্রধান জোসেফ হোচরিয়েটার বলেন, বিএমডব্লিউ আইএক্স৫ হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য একেবারে স্পষ্ট। এটি একটি সত্যিকারের বিএমডব্লিউ হবে। এতে চমৎকার ড্রাইভিংয়ের আনন্দ বজায় থাকবে। এর জন্য একটি নিখুঁতভাবে সমন্বিত সামগ্রিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যান্য অনেক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে। তবে বিএমডব্লিউ ভিন্ন পথ অনুসরণ করে চলেছে। দীর্ঘ ড্রাইভিং রেঞ্জ, দ্রুত রিফুয়েলিং এবং বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল গাড়িগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিপূরক হতে পারে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে বিএমডব্লিউর প্রকৌশলীরা ফুয়েল সেল সিস্টেম, বৈদ্যুতিক মোটর, উচ্চ ভোল্টেজের ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন স্টোরেজ ট্যাংকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন। গাড়িটির গতিশীলতা নিখুঁত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাটারিচালিত আইএক্স৫ মডেলের সমকক্ষ পারফরম্যান্স অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বিএমডব্লিউর। ফলে গাড়িটি শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে পাঁচ সেকেন্ডের কম সময় নেবে।
উন্নত রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন হাইড্রোজেন সিস্টেমের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাহকরা যে ধরনের ড্রাইভিং বৈশিষ্ট্য আশা করেন, তা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। মিউনিখে অর্জিত অভিজ্ঞতা সরাসরি স্টায়ার কারখানায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এই কারখানাতে ভবিষ্যতে উৎপাদনের জন্য ফুয়েল সেল সিস্টেম তৈরি করা হবে।
হাইড্রোজেন প্রযুক্তির উন্নয়নে টয়োটার সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে বিএমডব্লিউ। আইএক্স৫ মডেলে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের ফুয়েল সেল সিস্টেমটি উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।
বিএমডব্লিউ এর আগে জানিয়েছিল, নতুন এই গাড়িটি একবার হাইড্রোজেন পূর্ণ করলে ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারবে। এর রিফুয়েলিং করতে সময় লাগবে পাঁচ মিনিটেরও কম। এক্স৫ এর পরবর্তী প্রজন্মের মডেলে ক্রেতারা ব্যাটারিচালিত, প্লাগ-ইন হাইব্রিড, পেট্রল, ডিজেল বা হাইড্রোজেন পাওয়ারট্রেন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এটি পুরোপুরি বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন
কম দামে বিওয়াইডির নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চীনের জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ছোট আকারের বৈদ্যুতিক এসইউভির নতুন সংস্করণ বাজারে এনেছে। ‘ইউয়ান আপ’ নামের এই মডেলটি আন্তর্জাতিক বাজারে ‘অ্যাটো টু’ নামে পরিচিত। আগের চেয়ে কম দাম ও বেশি মাইলেজ সুবিধা নিয়ে চীনের বাজারে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে।
বিওয়াইডির ইউয়ান প্লাস বা অ্যাটো থ্রি মডেলের ছোট সংস্করণ এই ইউয়ান আপ। এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিক্রীত বৈদ্যুতিক গাড়ি। ক্লিনটেকনিকার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির তালিকায় এটি পঞ্চম স্থানে ছিল। এর আগে ছিল টেসলার মডেল ওয়াই ও থ্রি এবং বিওয়াইডির সং।
চলতি সপ্তাহে চীনে ২০২৭ মডেলের নতুন ‘অ্যাটো টু ফ্লাইং স্পার’ সংস্করণটি উন্মোচন করে বিওয়াইডি। গাড়িটি পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৮০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ইউয়ান পর্যন্ত, যা প্রায় ১১ থেকে ১৫ হাজার ৫০০ ডলার।
আগের মডেলের মতো নতুন ইউয়ান আপ গাড়িতেও ৩২ ও ৪৫.১২ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি প্যাক রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ৩০১ এবং ৪০১ কিলোমিটার রেঞ্জ বা মাইলেজ দিতে সক্ষম। এর মধ্যে ৩০১ কিলোমিটার সংস্করণের দাম আগের মতোই রাখা হলেও ৪০১ কিলোমিটার সংস্করণের দাম ১৮ হাজার ইউয়ান কমানো হয়েছে। তবে নতুন ‘এক্সিলেন্ট’ ভ্যারিয়েন্টে ৫১ দশমিক ১৩ কিলোওয়াট আওয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবার চার্জ দিলে ৫০১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে।
গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৩১০ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৮৩০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৬৭৫ মিলিমিটার। এর হুইলবেস ২ হাজার ৬২০ মিলিমিটার। আকৃতির দিক থেকে এটি বাজারে থাকা জনপ্রিয় হুন্দাইয়ের গাড়ির মতোই। এর ভেতরের অংশে নতুন নকশার টু-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল এবং ১২ দশমিক ৮ ইঞ্চির স্মার্ট ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৮ দশমিক ৮ ইঞ্চির একটি সম্পূর্ণ এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টারও রাখা হয়েছে গাড়িটিতে।
গাড়িটির প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টে বিওয়াইডির নিজস্ব প্রযুক্তির অ্যাডভান্সড স্মার্ট ককপিট রয়েছে। এতে ইনটেলিজেন্ট ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধাও পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ইমেজিং সিস্টেম এবং আধুনিক চালক সহায়তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। মহাসড়কে নিরাপদে অটোপাইলট নেভিগেশন ও রিমোট পার্কিং অ্যাসিস্টের মতো সুবিধাও মিলবে।
