বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিসাইডিং অফিসার সিল মারতে সাহায্য করে, আপনারা যদি দুর্নীতি দেখেন, তাহলে আপনারা প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকবেন। প্রিসাইডিং অফিসার একটাকেও বের হতে দেবেন না। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবেন, আমাদের ফোন করবেন। ভোটকেন্দ্র দখলের স্বপ্ন ত্যাগ করেন।
আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড়মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির দিন বোধহয় ফুরিয়ে আসছে, আসেন ঠাকুরগাঁওয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখানো হবে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘চারদিকে খবর পাচ্ছি, আলামত পাচ্ছি, গত ৭ মাসে লেজেগোবরে মাখায় দিছে, কী বলেন? ৮ মাস যায় নাই, ৪ জন এমপি-মন্ত্রীর পদত্যাগ হয়ে গেছে। সকালে এক কথা, বিকেলে এক কথা, মাথা ঠিক নাই; মানুষের শরীরে যখন জ্বর ১০২, ১০৩, ১০৪ ডিগ্রি ওঠে, তখন কথাবার্তা কারে কী কইতে হবে, তা বলার ঠিক থাকে না। মাকে ভাবি বলে ডাকে, জ্বর বেশি উঠে গেছে। লুটপাটের হাট বসাইছে বিএনপি এখন।’
৭১ নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এখানে এসে নির্বাচনি সভায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে জামায়াতকে ঘায়েল করতে চেষ্টা করেছেন—৭১-এ আমরা মানুষ হত্যা করেছি, নারী নির্যাতন করেছি, পাক সেনাবাহিনীর কাছে নারী সাপ্লাই দিয়েছি। ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে প্রশ্ন করি—আমরা সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ করেছি—আজকে যে বিএনপি অভিযোগ করে, এগুলোর সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নাই। এসব অভিযোগ হচ্ছে মিথ্যা অভিযোগ।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বরং আজকে যারা এই অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-নেত্রীরা, তাদের পরিবারের মুরুব্বি, বাপেরা, বড় ভাইয়েরা এই কামে জড়িত ছিলেন। ভদ্রলোকদের নাম না বলে একটু সম্মানের সঙ্গে বললাম। ঢাকা থেকে বিএনপির নেতারা এসে ঠাকুরগাঁওয়ে মিথ্যাচার করছেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারল না, উত্তরাঞ্চলের মানুষের, কৃষকের বাঁচা-মরার আসল সমস্যা হচ্ছে সারের। সারের সংকটের কারণে উত্তরাঞ্চলে ইউএনও পালিয়ে গেছে, ইউএনও অফিসে হামলা হয়েছে। সারের ডিলার নিয়োগ করতে গিয়ে বিএনপি দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে—ভাই-বোনদের, চাচা-ভাতিজা সবাইকে সারের ডিলার নিয়োগ করেছে। একেকটা ডিলার নিয়োগ করতে গিয়ে ১০ থেকে ১২ লাখ ঘুষ খেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা কৃষকের সার মেরে খায়, বিদ্যুৎ দিতে পারে না, যারা কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বাড়ায়, তাদের কাছে কি আমাদের অর্থনীতি, জানমাল বা কৃষক নিরাপদ হতে পারে? পারে না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ওরা বলে না ভোট দিলে এমপি হবো আমরা—এ কথা বলে না ওরা। এটা হচ্ছে অত্যাচারী শাসকের সুর। এটা হচ্ছে জালিম শাসকের সুর। এটা হচ্ছে লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের কথা। আপনারা এটা পারবেন না, যদি এটা করতে চান, নিজের কপালে নিজে আঙুল দেবেন।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে যদি টালবাহানা করা হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করা হবে। আপনাদের বলে যাই—কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিসাইডিং অফিসার সিল মারতে সাহায্য করে, আপনারা যদি দুর্নীতি দেখেন, তাহলে আপনারা প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকবেন। প্রিসাইডিং অফিসার একটাকেও বের হতে দেবেন না। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবেন, আমাদের ফোন করবেন। ভোটকেন্দ্র দখলের স্বপ্ন ত্যাগ করেন।’
ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ভাইয়ের সেই যে আশাবাদ, আপনারা যদি তার কথাকে সম্মান করেন—তিনি নির্বাচনে করেছেন, রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, তার তো আর আশা নাই। পরিবারের ভাইকে প্রার্থী করেছেন, এখন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ প্রশ্ন করছে—কোনো একটা রাজনীতি, কোনো একটা জেলার পরিবারের কাছে বন্দি করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘তাহলে তো প্রশ্ন আসে, যতবার বিএনপি বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে, আওয়ামী লীগের সময় বাদে, তারা ক্ষমতায় ছিলেন, মির্জা ফখরুল ভাই মন্ত্রী-মিনিস্টার ছিলেন, এমপি ছিলেন। কেন এত দিন পর ঠাকুরগাঁওয়ের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর, রাস্তাঘাট কেন কাঁচা আছে, কেন এখনো করা হয় নাই?’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন নির্বাচনের সময় এসে মায়াকান্না করছেন, আমি এমপি হলে সবকিছু করে দেবো, মাদক দূর করব, দুর্নীতি দূর করব। ফখরুল ভাই, আপনি রাষ্ট্রপতির আসনে আছেন, এখন আর আপনি রাজনীতি করেন না। প্রশ্নটা এখন এই মাঠ থেকে আপনার কাছে রেখে গেলাম—আপনি এমপি, মন্ত্রী থাকাকালে যত টাকা বরাদ্দ এখানকার জন্য এনেছেন, আপনার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের লোকেরা লুটপাট করে খেয়েছে। উন্নয়ন করতে দেয় নাই।’
তিনি বলেন, ‘আবারও যদি মির্জা ফখরুলের ভাইকে এমপি করেন, তাহলে ঠাকুরগাঁওবাসী টাকা দেবে সরকার, কিন্তু উন্নয়ন ঠাকুরগাঁওবাসী পাবে না। উন্নয়ন যাবে বিএনপির নেতাকর্মীর চাঁদাবাজি, দখলদারি, নেশাখোরদের পকেটে টাকা চলে যাবে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার কোনো দলের নেতা নয়, দেলাওয়ার কোনো গোষ্ঠীর নেতা নয়, দেলাওয়ার এই মাটি ও মানুষের সকলের নেতা। তাই সকলের কাছে অনুরোধ, দেলাওয়ারকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।’
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনসহ পাঁচজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
