টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে বংশাই নদে পড়ে নিখোঁজ হওয়া বিজয় চন্দ্র কোচের (২০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ৪১ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে উপজেলার দারিয়াপুর নামাপাড়া এলাকায় নদে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
বিজয় সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ধোপারচালা গ্রামের খনিন্দ্র চন্দ্র কোচের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে পাশের কালিহাতী উপজেলার রতনগঞ্জ এলাকায় বংশাই নদে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বিজয়সহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন। নৌকাটি বংশাই নদের ডোলশিমুল এলাকায় পৌঁছালে বিজয় হঠাৎ নদে পড়ে যান। তিনি সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে নদে পাড়ের ঝোপঝাড়ের কাছে গিয়ে পানিতে ডুবে যান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা জুবায়ের শিকদার জানান, ঘটনার পর বুধবার রাতেই ফায়ার সার্ভিস, থানা-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল থেকে আসা তিনজন ডুবুরিসহ ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের একটি দল বংশাই নদে উদ্ধার অভিযান চালায়। দিনভর নদের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বিজয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দলনেতা তৌহিদুর রহমান আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাত সদস্যের দল বৃহস্পতিবার দিনভর উদ্ধারকাজ চালায়। বংশাই নদের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ওই তরুণের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানতে পারলাম, ভাটিতে মরদেহ পাওয়া গেছে। স্রোত ও কচুরিপানা থাকায় আমাদের উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছিল। আমাদেরও ধারণা ছিল, মরদেহ অনেক ভাটিতে চলে গেছে।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।