কুয়াকাটায় অসুস্থ ব্যবসায়ীকে কিডনি দিতে প্রস্তুত ভাতিজি ও ভাগিনা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অসুস্থ চাচা ও মামাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে আত্মত্যাগের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন দুই স্বজন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভোগা ব্যবসায়ী হাজী মো. নজরুল ইসলামের (৬০) জীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় কিডনি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার ভাতিজি ময়না বেগম ও ভাগিনা মাওলানা সবুজ। স্বজনদের এমন মানবিক উদ্যোগে পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কুয়াকাটা পৌরসভার কচ্ছপখালী গ্রামের বাসিন্দা হাজী মো. নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত। গত দুই-তিন মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।
চাচার এই সংকটজনক পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তাকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন ভাতিজি ময়না বেগম। একইভাবে প্রিয় মামার জীবন রক্ষায় নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানান ভাগিনা মাওলানা সবুজও।
ভাতিজি ময়না বেগম বলেন, “হাজী মো. নজরুল ইসলাম আমার কাকা। আমি চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তাকে বাঁচাতে যদি আমার কিডনির প্রয়োজন হয়, তবে আমি স্বেচ্ছায় তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।”
ভাগিনা মাওলানা সবুজ জানান, “আমার একটি কিডনি দিয়ে যদি মামা সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, তবে আমি সানন্দে কিডনি দান করবো।”
বর্তমানে ময়না বেগম ও মাওলানা সবুজের প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ত ম্যাচিংয়ের (ক্রস-ম্যাচিং) প্রক্রিয়া চলছে। ডাক্তারি পরীক্ষার ফলাফল, শারীরিক উপযুক্ততা এবং চিকিৎসকদের চূড়ান্ত পরামর্শের ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনদের জীবন বাঁচাতে দুই তরুণের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। চিকিৎসাপ্রক্রিয়া শেষে হাজী মো. নজরুল ইসলাম সুস্থ হয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্বজন ও এলাকাবাসীর।
(পরামর্শ: পত্রিকায় পাঠানোর সময় আপনার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর নিউজের নিচে ‘প্রেরক’ হিসেবে যুক্ত করে দিতে পারেন, যাতে সংবাদপত্রের প্রতিনিধি প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে পারেন।)
