একটি জাতীয় দৈনিকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ‘তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিল নার্সারি কার্যক্রমের ব্যয়কে পোনা কেনার সম্পূর্ণ ব্যয় হিসেবে উল্লেখ এবং প্রকল্পের অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যয়কে পোনা ছাড়ার ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও ব্যয়কাঠামো সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য অধিদপ্তর, মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ২৯টি বাঁওড়ের জন্য প্রস্তাবিত ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণে সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। নব্বইয়ের দশকে গঠিত সমিতিগুলোর সদস্য তালিকা হালনাগাদ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছ হিসাব ও সুফল বণ্টনের মাধ্যমে সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে শুষ্ক মৌসুমসহ সারা বছর পানি ধরে রাখার উপযোগী মাছের আবাসস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পে বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খননে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণ ও প্রজনন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৯টি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পোনা উৎপাদনের অবকাঠামো ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা। জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের অফিস ভবন পুনর্নির্মাণে প্রস্তাবিত ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণ সেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ।
সংবাদে উল্লিখিত ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপন কার্যক্রমের ব্যয়। এর বাইরে রুইজাতীয় ও দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণে পৃথকভাবে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। আবার আট লাখ টাকার সরঞ্জাম খাতে চারটি ডেস্কটপের সঙ্গে দুটি ল্যাপটপ, চারটি প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে সম্পূর্ণ অঙ্ককে চারটি ডেস্কটপের মূল্য হিসেবে দেখানো যথাযথ নয়।
প্রকল্পে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে। এ বৃদ্ধি অর্জিত ও অব্যাহত থাকলে প্রকল্প সমাপ্তির পরও অতিরিক্ত উৎপাদন ও আয়ের সুফল পাওয়া যাবে। উল্লিখিত অঙ্কগুলো প্রস্তাবিত ব্যয়। অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা, সরঞ্জামের স্পেসিফিকেশন ও দর, জনবল যথাযথ মূল্যায়ন ও যৌক্তিকীকরণের বিষয়। উল্লেখ্য যে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল্যায়ন সভা (পিইসি) এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
অসম্পূর্ণ ব্যয়চিত্র উপস্থাপনে জনমনে বিভ্রান্তি এবং মৎস্য অধিদপ্তর ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বার্থে প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লিখিত তথ্যগত সংশোধন ও ব্যাখ্যা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রতিবাদলিপিটি আগামী সংখ্যায় প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।
