ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। নিজেদের অন্যতম প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে তাওহিদ হৃদয়ের দল। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে এই জয়ে সিরিজের শুরুতেই বড় সুবিধা পেয়েছে দলটি।
সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের আধিপত্যও কমেছে। সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই চিত্র দেখা গেল। এই জয়ে পয়েন্টের পাশাপাশি নেট রানরেটেও বড় সুবিধা পেল জিম্বাবুয়ে।
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের চাপে রেখেছিলেন তানজিদ হাসান। তাঁর সঙ্গে সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান আসে। ১৭ বলে ৯ রান করে সৌম্য ফিরলেও তানজিদ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। তবে পাওয়ার প্লের শেষ বলে নিউম্যান নিয়ামুরির বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩৮ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করেন এই ওপেনার।
তানজিদের বিদায়ের পর দ্রুতই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্র্যাড ইভান্সের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন ৪ রানে। এরপর সিকান্দার রাজার স্পিনে এলবিডব্লিউ হন তাওহিদ হৃদয়। ২১ বলে ১৩ রান করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ১৭ ওভারে ১০১ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে জিম্বাবুয়ের স্পিনারদের সামনে সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ টেকেনি। ১৮ বলে ১১ রান করে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে এলবিডব্লিউ হন মোসাদ্দেক। একই বোলারের বলে ৩৭ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। তাঁর বিদায়ে ১২৩ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
নুরুল হাসান সোহানও দলের হাল ধরতে পারেননি। ব্র্যাড ইভান্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ৫ রান করে ফেরেন তিনি। শরিফুল ইসলাম কোনো রান না করেই বিদায় নেন। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন চারটি চার মেরে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৩ রান করে। ৩৩ বলে চারটি চার মেরে এই রান করেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে তিনটি চারে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। মুস্তাফিজুর রহমান করেন ৬ রান। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৭২ রানে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ব্র্যাড ইভান্স। ৪৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামুরি নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই ২৪ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। প্রথম ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে ফেরানোর পর বেন কারান ও অভিষিক্ত টাফাডজোয়া সিগাকেও আউট করেন তাসকিন। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।
তবে সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভাইন। চতুর্থ উইকেটে ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ১০১ বলে ১০টি চারে ৮১ রান করে টেইলর সাইফ হাসানের বলে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়ার পথে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যান তিনি।
টেইলর ফেরার পর দ্রুতই সিকান্দার রাজাকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন সাইফ। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৭ রান করে রিশাদ হোসেনের শিকার হন। অন্য প্রান্তে দৃঢ়ভাবে ব্যাট চালিয়ে যান আরভাইন। ১০৬ বলে ৯টি চারে ৯৩ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র সাত রান দূরে থামে তাঁর ইনিংস।
একপর্যায়ে ২৩৪ রানে আট উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের আশা কমে যায় জিম্বাবুয়ের। কিন্তু শেষ দিকে নিউম্যান নিয়ামুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দ্রুত রান তুলে দলকে ২৭১ রানে পৌঁছে দেন। দুজনই ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ চার ওভারে আসে ৩৭ রান, যার মধ্যে শেষ তিন ওভারেই যোগ হয় ২৬ রান।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট পান। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় তাঁদের বোলিংয়ের প্রাথমিক সাফল্য কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানও রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে বড় হারে শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
সানা/আপ্র/১৮/১০/২০২৬
