হিস্যা অনুযায়ী পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া উচিত। অথচ কোনো কোনো মাসে পানির প্রবাহ ৫ হাজার কিউসেকেও নেমে এসেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া মহল্লায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ফরহাদ হোসেন বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তাঁরা এখন ১২ ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে কাজ করছেন। শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা রয়েছেন। তাঁরা প্রতিদিন পানির প্রবাহ পরিমাপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত অতীতের চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত জুনে কলকাতায় এ বিষয়ে একটি সভাও হয়েছে। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফরহাদ হোসেন বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব বৈঠকে আগামী দিনের ফারাক্কা চুক্তিতে পানির প্রবাহের নিশ্চয়তা নিয়ে জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন। বাংলাদেশে ফিরে এলে তাঁর কাছ থেকে অগ্রগতি জানার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দিনে পদ্মার পানি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি আশা করেন, ভারত বন্ধুসুলভ মনোভাব নিয়ে চুক্তি নবায়ন করে এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবে এবং প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধুত্বের পরিচয় দেবে।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল হোসেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান এবং গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর নওহাটা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পরিদর্শন করেন। দুপুরে নগরের শ্রীরামপুর টি-গ্রোয়েন পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
