আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
২০ অক্টোবর মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হতাহতের সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে এ হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক শিবিরে এ হামলা চালানো হয়। এর আগে হামলায় ৫৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে পৌঁছায়। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নবীন সদস্য। হামলার সময় তাঁরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হুতিরা শাবওয়া প্রদেশ লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আঘাত হানে।
পরে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করেন। তার দাবি, সৌদি আরবের এক কর্মকর্তার পরিচালনাধীন আল-আলাম শিবিরে অবস্থানরত সৌদি বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে।
শাবওয়া প্রদেশে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর মধ্যে বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনালও এ প্রদেশে অবস্থিত।
প্রদেশটির এক সরকারি সামরিক সূত্র সোমবার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এ হামলার মধ্য দিয়ে হুতিরা নতুন করে স্থল অভিযান চালানোর পথ তৈরি করতে পারে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী মোখা দখলের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এটিভি/এসআইআর
