যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করেছে হিন্দু স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ওকলাহোমার নরম্যান শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিম থর্প মাল্টিকালচারাল সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষ অংশ নেন।
হিন্দু স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুজন সূত্রধর বলেন, প্রবাসে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সকাল ৯টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুরোহিত হিসেবে পূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিনয় দেবনাথ। মন্ত্রোচ্চারণ, প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলোর মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সংগঠনের সহসভাপতি তন্ময় পালিত বলেন, ‘প্রবাসে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।’
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সমন্বয় করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক তন্ময় মালাকার। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনির মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়কে স্মরণ করা হয় এ উৎসবে। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও দুর্গাপূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
প্রবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এ ধরনের আয়োজন নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একই সঙ্গে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।
আয়োজকেরা জানান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে চান তারা।
