সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অন্য এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছে, তাদের বিচার এবং রায় কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশন ‘অবগত ছিল না’। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সৌদি সরকারকে কূটনৈতিকপত্র দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাঁচ দিন পর সোমবার ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) নজরুল ইসলাম। আগের কূটনৈতিকপত্রের একটি কপি তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।
মৃত্যুদণ্ডের ধারায় চলা বিচার এবং রায় কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকার থেকে বাংলাদেশ মিশনকে ‘না জানানো’ হয়ে থাকলে বিষয়টিকে ‘বিস্ময়কর’ বলছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসা গোলাম মসীহ বলেছেন, “আমার কাছে তো খুব অবাক লাগল যে, এত সিরিয়াস একটা কেইস, আর ডিসিশন তো একদিনেই হয়নি, একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে হয়েছে।
“ওভার দ্য পিরিয়ড হলে এইটা তো নলেজে অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। নলেজের বাইরে কীভাবে গেল? এইটা সম্ভবপর না। আমার সময়ে সবাই তাই দেখেছে, আমার সময় সেটাই হচ্ছিল।”
ওই সময় রিয়াদ ও জেদ্দা মিশনে লেবার উইংয়ের কয়েকজনের সঙ্গে সাত-আটজন আইনি সহায়তাকারী থাকার তথ্য দিয়ে গোলাম মসীহ বলেন, “তারা এগুলা মনিটর করত এবং হয় কনসাল জেনারেল বা রাষ্ট্রদূতকে ব্রিফ করত। ওদের কাজই এটা। ডেইলি তারা কোর্টে যেত, পুলিশ স্টেশনে যেত, তারা খোঁজখবর রাখত।
“আমার একটু অবাক লাগে যে এটা কেন তারা, এগুলা তো ইনফর্ম করা হয়। এটা তো গেলেই বোঝা যায় কী কী কেইস আছে, কোথায় কী কেইস আছে। এবং আমি তো মনে করি যে, কোথাও কোনো গ্যাপ আছে।”
জানানো হয়নি বলে দায় এড়ানোর সুযোগ দেখেন না রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকী।
তার কথা হলো, “জানাটা আমার দায়িত্ব, আমার কাজের অংশ, তাই না?
“সুতরাং, এইটা আমি এভাবেই বলব যে, এসব বিষয় আরও অনেক বেশি খবর নেওয়ার দরকার, আরও অনেক বেশি সচেতন থাকা দরকার।”
দূতাবাসের লোক সংখ্যা কম হলে সেখানে প্রবাসী কমিউনিটি এবং সিভিল সোসাইটিকে যুক্ত করার সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরে এ গবেষক বলেন, “আমাদের তো ওখানে লোকাল লেভেলে যারা আছেন, যারা দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসী আছেন, প্রফেশনাল অভিবাসী আছেন, তাদের কিন্তু ছেলেমেয়ে বা যারা পড়াশোনা করেছে, তাদেরকেই কিন্তু আমরা সোশ্যাল ওয়ার্কে ইনভলভ করে তাদের মাধ্যমে কানেক্টিভিটি তৈরি করতে পারি অভিবাসী কর্মীদের সঙ্গে। একটু অভিনব হয়ে, আউট অফ দ্য বক্সে যেয়ে চিন্তা করে করতে হবে সলিউশনগুলো।”
প্রবাসী দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া, সাজা কার্যকর এবং ভিয়েনা কনভেনশন মেনে বাংলাদেশ মিশনকে তথ্য দেওয়ার প্রসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কী ঘটেছে, সরকার কী বলছে
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে গত বুধবার ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ‘কিছু না জানানোর’ কথা বলা হয় বাংলাদেশ মিশনের তরফে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির ওই খবরে বাংলাদেশি এক নারী ও পুরষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা লেখা হয়।
গণমাধ্যমে ওই খবর আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে দুজনের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
বৃহস্পতিবার জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে এ চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা। তবে নিজেদের নাম প্রকাশে রাজি হননি।
জেদ্দা কনস্যুলেটের ওই কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিচার চলা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো নোটিফিকেশন, কূটনৈতিক পত্র বা তথ্য দূতাবাসকে কোনো মাধ্যমে দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো খবর পায়নি সরকার। সেজন্য সৌদি সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
“আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো খবর সংবাদ পাইনি। আমরা সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কি, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের পরিচয়টা কি, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।
“পরিচয় বলতে আমরা নামটা জানি। দুজনের নাম জানি। এছাড়া বাইরে ওরা কতদিন ধরে ওখানে কাজ করছে বা তাদের এম্প্লয়ার কে ছিল, কী ব্যাপার— সেই বিস্তারিত জানার জন্যই কিন্তু আমরা চিঠিটা দিয়েছি।”
তাদের মৃত্যুদণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক হিসাবে অভিহিত করে সৌদি আরবের স্থানীয় আইনের কঠোরতার কথাও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যখন একটা আইনের ব্যত্যয় ঘটে, তখন কিন্তু আমাদের ওই টাইমে বাংলাদেশের নাগরিকের জন্য আমার খুব একটা করার কিছু থাকে না। আমাদের বিদেশিরাওতো অনেকে এসে বাংলাদেশের যদি কোনো অন্যায় করে, তা বাংলাদেশের আইন-কানুন অনুযায়ী তাদের জেল হয়, তাদের জেলে যেতে হবে।
“তো আর সেটাতো এখন যে দেশে সেই দেশের আইন-কানুনতো প্রিভেইল করবে। সেই দেশের আইনই প্রিভেইল করবে। সুতরাং এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে, আমি মনে করি। তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক অবশ্যই, কেননা এই ধরনের আর খবর পেতে আমরা আশা করি না এবং এই ধরনের খবর আমরা পেতেও চাই না।”
বাংলাদেশ মিশন কি আসলে জানত না?
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন নারী, আরেকজন পুরুষ। এর মধ্যে ২৫ বছর বয়সি যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। তার বাবা প্রায় ২৪ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০২০ সালে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। এর দুই বছর পর সৌদি যান ওই যুবক।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মক্কার হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন ওই যুবক। দেশটিকে যাওয়ার আট মাসের মাথায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস পর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগও পেতেন।
এই দুজনের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দুই কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেপ্তার ও জেলে থাকা অপরাধীদের তালিকায় এ দুজনের নাম ছিল ঠিকই। কিন্তু কয়েক হাজার নামের মধ্যে সেটা স্পষ্ট ছিল না।
নাম প্রকাশ না করে জেদ্দা মিশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ মিশন থেকে জেলে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে প্রায় আড়াই হাজার জনের একটি তালিকা দেয় সৌদি সরকার। সেখানে দুজনের নাম রয়েছে।
“কিন্তু ওই ছকের ট্রায়াল ঘরে একজনের জায়গায় লেখা হয়েছে অ্যাডাল্টারি (ব্যভিচার) এবং অন্যজনের ‘আইসিটি’। কিন্তু ভারডিক্ট অংশে কোনো কিছুই লেখা হয়নি।”
এর মধ্যে তাদের রায় হয়ে যাওয়া এবং তা কার্যকরের প্রক্রিয়া এগোনোর বিষয়ে কোনো কিছু লেখেনি সৌদি সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাণদণ্ডের রায় হওয়া এবং তা কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ মিশন অবগত না থাকার বিষয়ে সোমবারের বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূতও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কী ঘটেছে, তা জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে পরিমাণ মামলা এবং ঘটনা থাকে, মিশনের এত অল্প লোকবলে সবকিছু দেখভাল করা সম্ভব হয় না।
পুরো ঘটনা তদন্ত করে কোথাও কোনো ঘাটতি বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।
তিনি বলেন, “এটা সিরিয়াসলি টেক আপ করা উচিত ছিল, আমি মনে করি। এটা সিরিয়াসলি টেক আপ করা উচিত ছিল।
“একটা তদন্ত করে শনাক্ত করা উচিত, দায় কার ছিল। যদি সৌদিদের দোষ থাকে, তো সৌদিদের শনাক্ত করবে। আর যদি আমাদের দোষ থাকে, সেটাও বের হবে। এটা বিশ্বব্যাপী নিউজ হয়েছে, এটা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।”
লোকবল সংকটের মধ্যেও তালিকা দেখে গুরুতর ধারায় হওয়া মামলাগুলো ভালোভাবে মনিটর করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, “কোথাও গ্যাপ হয়েছে। আর এত পরিমাণ কেইস, তা হোক। এটাতো মেজর কেইস, এটা জানবে না কেন? অন্যগুলো হচ্ছে ছোট ছোট কেইস।
“এটা হচ্ছে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট। তাহলে জানবে না কেন? এটা সিরিয়াসলি দেখবে না তারা!”
এক্ষেত্রে শুধু শ্রম উইংয়ের উপর ছেড়ে না দিয়ে বাংলাদেশ মিশন প্রধানদের মামলার বিষয়গুলো তদারকির পরামর্শও দিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশ মিশন জানলে কী করার ছিল?
দুই বাংলাদেশির বিচার কার্যক্রম চলার মধ্যে সরকার জানলেও সৌদি আরবের আইনি কাঠামোয় কিছু করার থাকত কিনা, সেই প্রশ্ন এসেছে।
এর সঙ্গে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকের রেহাই পাওয়ার উদাহরণও আসছে সামনে।
ফেইসবুক পোস্টে মহানবীকে (স.) অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কান নাগরিক আনোজান শিবারসার সাজা গত বুধবার কমিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট।
গত জুনে তার বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর সেপ্টেম্বরে বিচারিক আদালতের রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হয়েছিল।
এরপর সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরীয়া আইনে তার বিরুদ্ধে আপিল করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলীরা।
ওই আপিলের রায়ে শিবারসার মৃত্যুদণ্ড আসার পর ব্যাপক শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় এবং আইনি তৎপরতা শুরু করে দেশটির সরকার।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত আগে বাংলাদেশ মিশন থেকে জানলে আইনি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকত বলে মনে করছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।
তিনি বলেন, দূতাবাসের পরামর্শক যারা, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে, জেলগুলো পরিদর্শন করা, বড় মামলায় আদালতে হাজির হওয়া এবং দূতাবাসকে রিপোর্ট করা। তারা মনিটর করবে প্রত্যেকটা কেইস। আইনি সহায়তার মানেই তো এটা।
আইনি সহায়তা পেলেও ওই দুজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সৌদি আইনে সেটা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ সেভাবে না থাকার কথা বলছেন গবেষক তাসনীম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, “ওদের ওইখানে আইন কিন্তু খুবই শক্ত এবং আপনি যদি দেখেন, যদি মসজিদের ভেতরে তারা যদি মনে করে কোনো অঘটন বা যাই হোক, হয়তো কিছু ঘটেছে, তাহলে ওইটা কিন্তু তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের আইনের বাইরে আনতে পারবে না।
“তবে আমার অ্যাম্বাসি যে জানতেন না, তার জন্য যে একটা লইয়ার নিয়োগ, তার পক্ষ সমর্থনের, এই কাজগুলো দুঃখজনক যে, এই খবরটার সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু ওদের যে শাস্তির ব্যবস্থা, এটা কিন্তু ফেরাতে পারতেন না। এটা বাংলাদেশ সরকার ফেরাতে পারত না। কিন্তু সিম্প্যাথিটা থাকতে পারত।”
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ডেকে বৈঠক করে ঢাকা।
সৌদি আরবের আইন কঠোর হওয়ার পাশাপাশি খুব স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেছেন, “এই যে মেজর যেসব কেস হয়, একাধিক বিচারক এটা ডিসিশন দেন।
“আমার সময় ছিল, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হলে সাতজন জাজ এক্সামিন করতেন। আর একটা জাজ যদি ভিন্নমত দেন, আবার নতুন আদালতে স্থানান্তর হত। সবাই ঐকমত্য হলে তখনই রায় হয়। একজনও ডিফার করতে পারবে না। একদম পুঙ্খানুপুঙ্খ এগুলা কিন্তু হয়। আর ওদের জুডিশিয়াল সিস্টেম খুবই ট্রান্সপারেন্ট, নিউট্রাল এবং ফেয়ার।”
আর কোনো বাংলাদেশিকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন রামরুর তাসনীম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, এমন একটা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেন প্রত্যেকটা ঘটনায় মনোযোগ দেওয়া যায়। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার পদাঙ্ক অনুসরণ করুক, শ্রীলঙ্কাতো পারছে কাজটা করতে।
“আবার ইন্ডিয়া যেটা করে, ওই জায়গায় যারা দীর্ঘমেয়াদী প্রবাসী আছে, তাদের নিয়ে নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন করে দিয়েছে, ওরাই অ্যাম্বাসির ছত্রছায়ায় দেখভালগুলো করে। তো ওরকম কাজ করতে হবে।”
প্রবাসী কর্মীদের জন্য সেবাটা এখন ব্যক্তির পদে থাকা ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা তুলে ধরে এ বিশ্লেষক বলেন, “আমি বলব সার্ভিসটা সম্পূর্ণ ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল। এটার ঠিক ইনস্টিটিউশনাল মেকানিজম নাই। এটা কোনো ব্যক্তি যিনি মনে করছেন এটা ইম্পর্টেন্ট, তিনি সার্ভিস দিচ্ছেন।
“কিন্তু কোনো ইনস্টিটিউশনাল মেকানিজম নাই যে আজকে যদি ৩০টা কেস আসে, ৩০টা কেস আমি কীভাবে একবার করে দেখবো এবং দেখবো যে কোনটায় অ্যাকশন নেব, সেটা আমরা ঠিক করব। এ ধরনের কোনো ইনস্টিটিউশনাল মেকানিজম নাই।”
