তিন দশকের বেশি সময় ধরে গিটারের সুর দিয়ে দেশের বহু শিল্পীকে সঙ্গ দেওয়া পরিচিত মুখ রাসেল খান আর নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে বড় বোনের বাসায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এ গিটার বাদকের। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে যন্ত্রসংগীতশিল্পী আজমীর বাবু গ্লিটজকে বলেন, "বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে গেলে হঠাৎ স্ট্রোক করেন রাসেল খান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
আজমীর বাবু জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় বনানী মডেল স্কুলে রাসেলের জানাজা হয়। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আরেক দফা জানাজার পর তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন রাসেল খান। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
আজমীর বাবু বলেন, "প্রায় ২০-২৫ দিন আগে রাসেল খান ডেঙ্গু পজিটিভ হন। তবে তার ডেঙ্গুর ভ্যারিয়েন্টটি ছিল চিকনগুনিয়া ঘরানার, যা শারীরিকভাবে বেশ জটিলতা তৈরি করেছিল। হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়, তিনি ভালো হয়ে যান।
"পরবর্তীতে চিকনগুনিয়া ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে তার পায়ে পানি আসা এবং আর্থাইটিসজনিত জটিলতা দেখা দিলে স্বজনরা তাকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিডনিজনিত কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। এরপর সুস্থ হয়ে গত ১৩ অক্টোবর আমাদের সঙ্গে একটি শো-তেও অংশ নেন তিনি।"
রাসেল খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের প্রথম সারির প্রায় সব সংগীতশিল্পীর সঙ্গেই গিটার বাজিয়েছেন রাসেল খান।
রাসেল খানের মৃত্যুর খবরে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফেইসবুকে পোস্টে তার সঙ্গে কাটানো দীর্ঘদিনের স্মৃতি তুলে ধরছেন সহকর্মী ও শিল্পীরা।
বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) তাদের এই সদস্য ও লিড গিটারিস্টের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।
সংগীতশিল্পী মাকসুদ হক তার ব্যান্ড 'মাকসুদ ও ঢাকা' র সাবেক এই লিড গিটারিস্টের স্মরণে ফেইসবুকে লিখেছেন, "গভীর কষ্ট ও অনুশোচনা নিয়ে আমার অত্যন্ত গুণী সংগীতসঙ্গী, বন্ধু এবং 'মাকসুদ ও ঢাকা'-র সাবেক লিড গিটারিস্ট রাসেল খানের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। আজ সকালে ঢাকায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
“একসঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করা, গভীর রাতের প্র্যাকটিস সেশন, নতুন সৃষ্টির আনন্দ আর আমাদের নীরব বন্ধুত্বের স্মৃতি আমার হৃদয়ে চিরকাল গাঁথা থাকবে। এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তার সহধর্মিণী শারমিন খান ও পুরো পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। সব বন্ধু, সহশিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তির জন্য দোয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। শান্তিতে থেকো, সুরের আলোয় থেকো, প্রিয় ভাই।"
স্মৃতিচারণ করে সংগীতশিল্পী বেলাল খান লিখেছেন, "সবসময় হাসি-খুশি থাকা মানুষটা এভাবে চলে যাবে, কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সবার প্রিয় মানুষ, প্রিয় গিটারিস্ট, প্রিয় বড় ভাই রাসেল খান আজ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। অসংখ্য স্মৃতি, একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য ভালো লাগার মুহূর্ত বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।"
তিনি আরও লিখেছেন, "কিছু মানুষের চলে যাওয়া শুধু শূন্যতা তৈরি করে না, হৃদয়ের একটা অংশও যেন সঙ্গে করে নিয়ে যায়। রাসেল ভাই, আপনার সেই হাসিমাখা মুখ, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকবে। আপনাকে খুব মনে পড়বে, ভাই। আল্লাহ রাসেল ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।"
