বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগের উদ্যোগে ঢাকার মিরপুর-২-এ বিইউবিটি ক্যাম্পাসে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিইউবিটি ম্যাথ জাম্বুরি ২০২৬। এ আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত ছিল স্নাতক পর্যায়ের গণিত অলিম্পিয়াড এবং ‘Future Pathways of Applied Mathematics’ শীর্ষক একটি সেমিনার।
দেশের ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ২৭৪ জন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আবদুল মোফিজ এবং বুয়েটের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কে. এম. আরিফুল কবির। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিন।
গণিত অলিম্পিয়াডে প্রতিযোগীদের ৯০ মিনিটে সমাধানের জন্য ৪০টি গাণিতিক সমস্যা দেওয়া হয়। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
সেমিনারটি শুরু হয় জনপ্রিয় গণিতবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা চমক হাসানের একটি অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। মূল প্রবন্ধে প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ডেটা সায়েন্স এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে গণিতের বহুমুখী প্রয়োগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিইউবিটি ম্যাথ জাম্বুরি ২০২৬-এর আহ্বায়ক ড. মো. আবদুল হাই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নে ফলিত গণিতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিইউবিটির ফলিত গণিতে এমএসসি প্রোগ্রামের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মো. ইস্তিয়াক রহমান চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার অর্জন করেন। বিইউবিটির মো. তানভিন আহমেদ প্রথম রানার-আপ হয়ে ১০ হাজার টাকা এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মো. শিথিল ইসলাম দ্বিতীয় রানার-আপ হয়ে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারী আরও সাতজন প্রতিযোগী তাঁদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট পান। তাঁরা হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ নাজমুস সালেহীন নিরব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. আমিনুল ইসলাম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্য বাছাড়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দেওয়ান আদিল আহমদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. আবদুর রহমান, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাসমিয়া জাহান এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. মুসফিক আহমেদ।
অনুষ্ঠানটি সহযোগিতায় ছিল আলোক হেলথকেয়ার অ্যান্ড হসপিটাল, ব্রিডিং গ্রাউন্ড, হেরন ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং ইম্পেরিয়াল সিটি সেন্টার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটির সমাপ্তি ঘটে। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের গাণিতিক মেধা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
