কালবেলা · রাজনীতি
সাভারে সম্প্রীতি রক্ষায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতা আমির শিরালীর সহায়তা
২০/১০/২০২৬

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ১৪টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি মো. আমির শিরালী। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
সোমবার (২০অক্টোবর) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি নেতা আমির শিরালী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরুলিয়া ইউনিয়নের ১৪টি পূজামণ্ডপের সব কটিতেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথাও বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আমির শিরালী বলেন, দলীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে আমি বিরুলিয়া ইউনিয়নসহ গোটা সাভারের পূজামণ্ডপগুলোর খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করছি। আমার সাধ্য অনুযায়ী পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও চেষ্টা করছি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পূজামণ্ডপগুলো যেন সুরক্ষিত থাকে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখতে আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি।
আমির শিরালী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও জানান, বিরুলিয়া ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোর খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেম্বার ফরহাদ শিরালী, বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক মেম্বার খোরশেদ আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, সাভার থানা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শানাল ইসলাম, বিরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল লতিফ এবং সাভার থানা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাওন শিরালী,বিরুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আলাউদ্দিন আলাল, যুবদল নেতা ফারুক লিটন, বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সহসভাপতি আবু হামজা শিরালীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗