বুলডোজারে অভিযুক্তদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা হয়েছে। উষ্মা প্রকাশ করেছিল আদালতও। যদিও
গ্যাংস্টারদের ‘অবৈধ’ বাড়ি-জমি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে আদতে রাজ্যের দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে দিয়েছেন বলে দাবি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই বিষয়ে প্রকাশ করা হয়েছে পরিসংখ্যান।
আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিগত সাত বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে যোগী প্রশাসন। দাবি করা হয়েছে, গ্যাংস্টারদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্ধারকৃত সবচেয়ে মূল্যবান জমিগুলোতে দরিদ্রদের জন্য বাসস্থান গড়ে তোলা—এটিই এখন সরকারের মূল বার্তা। “গ্যাংস্টারের বাড়ি হয়ে উঠছে দরিদ্র পরিবারের আবাস”
২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী আদিত্যনাথ প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে, রাজ্যে ‘গ্যাংস্টারস অ্যাক্ট’-এর অধীনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অনুরূপ পদক্ষেপের মোট অর্থমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের আগস্ট মাস নাগাদ তা ছিল ১,৮০০ কোটি টাকা, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ৯,০২২.৩৩ কোটি টাকা, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ১১,৮৪১ কোটি টাকা, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ১৪,২৪৬ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস নাগাদ যা ১৫,২৩৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এই বিপুল অঙ্কের সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে গরিবদের জন্য বাসস্থান। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ১৪৮টি ফ্ল্যাট গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রয়াগরাজের লুকারগঞ্জে ৭৬টি ফ্ল্যাট, যা প্রয়াত গ্যাংস্টার-রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদের নেটওয়ার্কের কাছ থেকে উদ্ধার করা জমিতে ‘পিএমএওয়াই-আরবান’ প্রকল্পের অধীনে প্রয়াগরাজ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে। প্রায় ৬.৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফ্ল্যাটগুলোর চাবি ২০২৩ সালের ৩০ জুন হস্তান্তর করা হয়েছে।
লখনউয়ের দালিবাগে ৭২টি ইডাব্লিউএস ফ্ল্যাট—যা লখনউ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কর্তৃক প্রায় ২,৩২২ বর্গমিটার জমিতে নির্মিত হয়েছে। এই জমিটি মুখতার আনসারি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ফ্ল্যাট বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৩৬.৬৫ বর্গমিটার এবং দাম ১০.৭০ লক্ষ টাকা।
তৃতীয় আরেকটি প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর, মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াগরাজের কাসারি-মাসারিতে ‘পদ্মলোক আবাস যোজনা’-র অধীনে ১,২০০টি বাড়ি তৈরির প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০২টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৫৯৮টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এই জমিও আতিক আহমেদের নেটওয়ার্কের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে গ্যাংস্টার-সংশ্লিষ্ট জমিতে নির্মিত বাড়ির মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১,৩৪৮টিতে। এছাড়াও গোরক্ষপুরের ‘পাম প্যারাডাইস’ কমপ্লেক্সে ১৬০টি ইডাব্লিউএস ফ্ল্যাট হস্তান্তর, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়ার কথা ছিল। রাজ্যের সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের বৃহত্তর উদ্যোগের একটি অংশ।
