Ei Samay
Published on
:
2 min read
অতনু বসু
১৯৮৮-তে কলাভবন-উত্তীর্ণ একটি ব্যাচ ২০২৫-এ সিদ্ধান্ত নেন প্রদর্শনী করবেন, নামকরণ হয় ‘ফিরে দেখা’। তাঁরা আটজন অ্যাকােডমিতে প্রথম প্রদর্শনী করলেন। সকলেই চর্চা-অনুশীলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। তাঁদের উদ্যোগ স্বাগত, ভবিষ্যতে তাঁরা এই স্থিরতা বজায় রাখবেন আশা করাই যায়। শিল্পরসিক দর্শক চান সৃষ্টিশীলতার ধারাবাহিকতা। আজকাল যেন বহু প্রদর্শনীই কয়েক যুগ আগের সেই হিরণ্য সময়ের ছায়ামাত্র, যার ধূসরতার চিহ্নে মনকেমন করে।
প্রকৃত বিমূর্ততা চিত্রকে উন্নীত করে, শিল্পীকে বুঝতে হবে তার অন্তর্গত প্রধান ভাবনা ও ধরনকে। শিল্পীর নিজের কাছেই আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য মেইন পারপাস অব রিলেশনাল কম্পোজ়িশন স্পষ্ট না হলে ছবির অন্তর্গত সত্য উদ্ঘাটিত হবে না। বেদ পি সন্দীপ-এর অ্যাক্রিলিকের ছবির বিমূর্ততায় কোনও নির্দিষ্ট রূপ-রূপান্তরই নেই। ফলে তাঁর কাজগুলি সেই অর্থে কোনও শৈল্পিক বার্তা দেয় না। তবে তাঁর ভাস্কর্যসুলভ পেন্টেড আয়রনের ধবধবে সাদা ‘টুগেদার’-এ চমৎকারিত্ব আছে।
Ei Samay
অর্পিতা দাশগুপ্ত’র মিশ্রমাধ্যমের ছবিতে চাঁদের প্রাধান্য, যেন জোর করে চাঁদকে প্রত্যক্ষ করানো। অন্যান্য অংশের তুলনায় পারস্পরিক সম্পর্ক অন্তর্হিত। সমগ্র আবহে একটা রহস্য রোমাঞ্চের পরিবেশ। পেন্টিং কোয়ালিটি বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে কয়েক জায়গায়। ক্যাকটাস বা অন্য অনুষঙ্গ রূপক হিসেবে কোনও বার্তা দিতে অক্ষম। মনে রাখতে হবে পেন্টিং কখনওই গল্প-উপন্যাসের ছাঁচে ফেলা সচিত্রকরণ নয়। অর্পিতার চেষ্টা আছে কিন্তু কম্পোজ়িশনে অ্যারেঞ্জমেন্ট ও রূপবন্ধকে প্রয়োজনীয়তা বুঝে স্পেস অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
শ্যামাপ্রসাদ দত্ত টেম্পারায় স্পেসের বিস্তার ও রূপবন্ধের মধ্যে ভারসাম্য এনেছেন। লৌকিক সারল্যের নম্র রচনার নৈসর্গিকতায় রূপকল্পে একাকিত্ব, মৎস্য, প্রস্ফুটিত পদ্ম ও কোরক, চন্দ্র, পদ্মপত্র, অন্তরীক্ষ, অনিশ্চিত জীবন, সমগ্র দৃশ্যকল্পকেই কবিতার গহনে প্রবেশ করায়। ছবি মনে পড়ায়...’ চালের ধূসর গন্ধে তরঙ্গেরা রূপ হ’য়ে ঝরেছে দু’বেলা নির্জন মাছের চোখে...’। কম্পোজ়িশন কখনও চিত্ররূপকেও ছাড়িয়ে যায়। টেম্পারামেন্ট-এর সংযম সাবলীল।’ উই গট মুন অফারিংস’ চমৎকার। মৃদুলা বন্দ্যোপাধ্যায় অসাধারণ কাঁথা স্টিচ করেছেন তসর, খাদি, কালো সিল্কের উপর। তাঁর প্রতিটি কাজ নকশি কাঁথার নিখুঁত কাব্য। এই সংবেদনশীল স্টাইল-স্টিচিং স্পেসকে এক ভারসাম্যের আয়তনের মধ্যে রেখে রচনায় সংযম এনেছেন, যেখানে লোকশিল্পের এক গভীর নির্যাস আছে। যার সৌন্দর্যময় আলঙ্কারিক বিন্যাস চোখ ও মনের আরাম।
Ei Samay
ভাস্কর চৌধুরীর নিজস্ব স্টাইল-টেকনিক নেই। নিজেই তৈরি করেননি, না কি চাননি, বোঝা দুষ্কর। তাঁর কাজে যে ভাবে যোগেন চৌধুরী প্রবেশ করে আছে দ্রুত তাঁকে সবটাই পরিহার করতেই হবে। ‘অ্যানাদার নাইট অব দ্য ওউল’-এ যোগেনের ৯৯ ভাগ উপস্থিতি চোখে লাগে। তাঁর রিদমিক-জিওমেট্রির জোর থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি অন্যের প্রভাবে এতটা নিমজ্জিত হবেন? অন্য বিশ্লেষণের জায়গাই রাখেননি।
বিবেক রায়ের কাজ সচিত্রকরণ ধর্মী। নানা কারণে ধারাবাহিকতার অভাব। তবু মনোপ্রিন্টের আগ্রহেই স্টাইল-টেকনিকের স্ট্রাকচারাল কোয়ালিটিকে তিনি বিবর্তিত করতে-করতে এগোলে দৃষ্টিনন্দন গতিপথ তৈরি হতে পারে। আধুনিক ভাস্কর্যের গুণাগুণ কৃষ্ণ গোস্বামীর করায়ত্ত্ব। তবু কোথাও হেনরি মূর, চিন্তামণি কর, নিরঞ্জন প্রধানকে মনে পড়ে। ফাইবার গ্লাস ও ব্রোঞ্জ-এ যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় আছে তাঁর ভাস্কর্যে।
কম্পোজ়িশনাল জিওমেট্রি ও মডার্ণ-ট্রাডিশনাল একটা ভাবনাকে দেহসর্বস্ব গঠনমূলক শৈলীর মাধ্যমে সুন্দর ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কৃষ্ণাকাবেরী দাস মহাপাত্রের কাজে এক রকম অস্থিরতার লক্ষণ। নানা মাধ্যমে স্টাইল টেকনিকের আপাত দুর্বলতা দীর্ঘ অনভ্যাসে এক অন্তরায় তৈরি করেছে। তাঁর মিশ্রমাধ্যমের ‘শালিক’ সিরিজ় অনেক প্রাণবন্ত।
