শৈশবে মায়ের হাত ধরে নাচের জগতে পা রাখা সায়মা হাসিবা অপূর্ব এখন নিজেকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য, শিক্ষাজীবনের কৃতিত্ব ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
নাচের পাশাপাশি অভিনয় ও মডেলিংয়েও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিতে চান অপূর্ব। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার স্বপ্নও দেখছেন তিনি।
ছোটবেলায় শান্ত ও চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন সায়মা হাসিবা অপূর্ব। পড়াশোনার বাইরে নাচের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। মাত্র তিন থেকে চার বছর বয়সে মায়ের অনুপ্রেরণায় ২০০৮ সালে ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই নৃত্যের সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। সময়ের সঙ্গে নাচ কেবল শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে নিজের প্রতিভা প্রকাশ ও স্বপ্নপূরণের অন্যতম মাধ্যম।
নৃত্যে দক্ষতা অর্জনের জন্য বাফার ধানিয়া শাখা, জাগো আর্ট সেন্টার ও সমর্পণ কলাকেন্দ্রে চর্চা করেছেন অপূর্ব। তাঁর নৃত্যগুরু বৈশাখী মজুমদার। নিয়মিত অনুশীলন ও পরিশ্রমের স্বীকৃতিও পেয়েছেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। জাতীয় নৃত্য শিক্ষা সপ্তাহ ২০২১-এ উচ্চাঙ্গ নৃত্যে এবং ২০২২ সালে লোকনৃত্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এসব অর্জন নৃত্যশিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন অপূর্ব। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়ন করেন তিনি। পরে ইডেন সরকারি মহিলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। দুই পর্যায়েই প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়াকে নিজের পথচলার অন্যতম অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
নৃত্যের পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য পেয়েছেন সায়মা হাসিবা অপূর্ব। ‘ফেস অব এশিয়া ২০২১’-এর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার ২০২২’-এ প্রথম রানার-আপ হন তিনি। ‘আগামীর তারকা ২০২৩’-এর চূড়ান্ত পর্বেও জায়গা করে নেন।
সম্প্রতি ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগ্যান্স বাংলাদেশ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার মিসেস বিভাগে দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন তিনি। এ সাফল্যের জন্য আয়োজক মলি আক্তার ও মো. ইকবাল হোসেইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অপূর্ব।
মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি অভিনয়, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, অনলাইন ভিডিও বিজ্ঞাপন, সংগীতচিত্র ও আলোকচিত্রের কাজেও যুক্ত রয়েছেন অপূর্ব। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠান এবং ওটিটি ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া ‘সেইলর’, ‘বিশ্বরঙ’ ও ‘দ্য পার্পলস বাই জ্যাজ’-এর সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও আলোকচিত্রের কাজে যুক্ত হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লোকনাট্য দলের প্রযোজনা ‘কঞ্জুস’ ও ‘সুন্দর’ নাটকেও কাজ করেছেন সায়মা। নৃত্য, অভিনয় ও মডেলিং-তিনটি ক্ষেত্রেই নিজের কাজের পরিধি বাড়াতে চান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অপূর্বর স্বপ্ন আরও বিস্তৃত। নৃত্যের পাশাপাশি বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। দেশের স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ ‘রুটস ইন রিদম’-কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করতে চান তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নারীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আগ্রহী সায়মা।
নিজের পথচলায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে মায়ের কথা উল্লেখ করেন সায়মা হাসিবা অপূর্ব। পাশাপাশি স্বামী মো. নুরুল ইসলাম ও বোনের সমর্থনও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।
তাঁর বিশ্বাস, সততা, ইতিবাচক মনোভাব ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজের প্রতিভাকে আরও বিকশিত করে শিল্পের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরাই তাঁর আগামীর লক্ষ্য।
বিআলো/শিলি