সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম (সেবা)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এসআরবি ফোর্সেসের গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এসআরবি ডিজি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা মোকাবিলায় এলিট ফোর্স এসআরবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৫টি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি সদস্য, সাড়ে ৫০০-এর বেশি পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেল নিয়ে টহল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্থানে এসআরবির ডগ স্কোয়াড এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন, টহল জোরদার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য রিজার্ভ রাখার পাশাপাশি ড্রোনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। কেউ মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করলে তাকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।
এসআরবি ডিজি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো দুষ্কৃতকারী পূজামণ্ডপ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত করা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে পূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবীদের এসআরবি সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পূজা কমিটির স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেন। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি নষ্ট করতে কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে বা এ ধরনের কোনো তথ্য জানা থাকলে তা এসআরবিকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিক যেন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এসআরবি কাজ করছে।
চলতি বছর দেশে ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে এসআরবি ডিজি বলেন, প্রতিবছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। তবে তার মতে, পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কম সংখ্যক পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষেও আরও সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
বিআলো/আর আই