ভারতের হয়ে খুব বেশি দিন না খেললেও পরিচিত নাম তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে দাপট দেখিয়েছেন। সদ্য দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিন বোলিং কোচ হয়েছেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সহকারী হয়ে নিজের অতীতের এক গোপন কথা ফাঁস করেছেন অমিত।
ভারতের আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে এসে অমিত জানিয়েছেন, ভারতীয় দলে অভিষেকের ঠিক পরেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কাটিয়েছেন তিনি। ২০০৩ সালে ভারতের এক দিনের দলে অভিষেক হয়েছিল অমিতের। কিন্তু খারাপ খেলায় বাদ পড়েন তিনি। তার পরেই কঠিন সময় শুরু হয়।
অমিত বলেন, “প্রায় দেড় বছর ধরে অবসাদে চলে গিয়েছিলেন। শুধু ভাবতাম, কী ভুল করলাম। সবসময় মাথায় একটাই কথা ঘুরত। কেন বাদ পড়লাম? জবাব পেতাম না।”
শুধু ভারতীয় দল নয়, সেই সময় ঘরোয়া ক্রিকেটেও বাদ পড়েন অমিত। তার পরেই তিনি বুঝতে পারেন, কোথায় ভুল হচ্ছে। অমিত বলেন, “আমি ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর বাদ পড়ি। তার পর দলীপ ট্রফি থেকেও বাদ পড়ি। ভারত ‘এ’ বা জ়োনাল দলেও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। খুব খারাপ সময় চলছিল। তখনই এক নির্বাচক আমাকে বলেন, ভাল খেলতে পারছি না। তার পর বুঝতে পারি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল না খেললে ভারতীয় দলে সুযোগ পাব না।”
সেই সময় যে কষ্ট তিনি পাচ্ছিলেন তা কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারছিলেন না। কথা বলার কেউ ছিল না। অমিত বলেন, “খারাপ সময়ে কথা বলার কেউ ছিল না। পরিবারের কাউকে জানাতে পারিনি। কারণ, ওরা জানলে আমার থেকে বেশি চিন্তা করত। তাই নিজেকেই সামলাতে হয়েছে। আমাকে ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে বলা হয়েছিল। সেটাও করি। তার পর দলীপে সুযোগ পাই। আমার মাথার উপর কেউ ছিল না। তাই নিজেকে প্রমাণ করে আবার ফিরতে হয়েছে।”
২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে আবার ভারতীয় দলে সুযোগ পান অমিত। এ বার টেস্টে অভিষেক হয় তাঁর। ভারতের হয়ে ২২ টেস্ট, ৩৬ এক দিনের ম্যাচ ও ১০ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন অমিত। আইপিএলে ১৬২ ম্যাচে ১৭৪ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই একমাত্র বোলার যাঁর আইপিএলে তিনটি হ্যাটট্রিক রয়েছে। এ বার দিল্লি ক্যাপিটালসে সহকারী কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে অমিতকে।
