Published on
:
2 min read
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাটখোলায় ২২ বছরের এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। পরিবারের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল কিছু লোকজন। সেই হুমকি এবং পরিবারের সম্মানহানির আশঙ্কা থেকেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির আবেদন জানিয়ে বারাসত থানায় বিক্ষোভ পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটখোলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলেন। এমনকী, আগামী দিনে তাঁদের বিয়ের কথাও চলছিল। অভিযোগ, গতকাল দুপুরে ওই তরুণী তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে গেলে এলাকার কয়েকজন (মাতব্বর) তাঁদের ঘরের মধ্যে একা দেখতে পান। এর পরে বাইরে থেকে ঘরে (ভাড়ার ঘরে) তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো করা হয় এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই তরুণী। ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং সম্মানহানির ভয়েই এ দিন দুপুরে নিজের বাড়িতে তিনি আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বারাসাত থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
মৃতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় তাঁর প্রেমিকের কোনও দোষ নেই। বরং যাঁরা ভিডিয়ো করেছিলেন এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। মৃত তরুণীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির সম্পর্ক ছিল আমরা সবাই জানি। ওদের বিয়েও ঠিক ছিল। ওদের একটি ভিডিয়ো তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ভয়ে আমার মেয়ে এরকম কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাসাত থানার সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় এখন পুলিশের পদক্ষেপ এবং তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
