হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রণালির অন্য অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টােবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার শিকার সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি তেল স্থানান্তরের কাজ করছিল। রাতের বেলায় হামলার পর সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। বাকি তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়ে অচল হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। খবর আল জাজিরার।
তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকাবাহী—সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে এক দিনে এতগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালির অন্যান্য অংশে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও সংঘাতের আওতায় আসবে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলার ঘটনাও ঘটছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলে সহায়তা করছে। এর জবাবে ইরান হামলা আরও জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়েও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে এবং ইরান জাহাজে হামলা ও মাইন পেতে রাখার বিষয়ে ‘ভুয়া’ দাবি করছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক মুখপাত্রও ইরানের মাইনসংক্রান্ত দাবিকে ভুল বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে মাইন সরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিটি এখনও খোলা রয়েছে এবং ৯৫ শতাংশ জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভ্যাল জানান, প্রতিদিন হামলার শিকার জাহাজ ও ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ছে। ইরান বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন তারা মেনে নেবে না এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
তেহরানে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ চালানোর জন্য দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত এবং পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করেছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বারলি হালকেট বলেন, ইরানে হামলা জোরদার করা রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধের ব্যয় কমানো ও অর্থনৈতিক চাপ থেকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। এই চাপ শুধু বিরোধী দল থেকে নয়, রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও আসছে বলে মন্তব্য করেছেন হালকেট।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: হরমুজ প্রণালি
২২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ অক্টোবর ২০২৬
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
