মহম্মদ ইউসুফ (বাঁ দিকে) এবং বিমানবন্দরে হামলার পরের ছবি (ডান দিকে)ছবি: X
Published on
:
2 min read
উমরাহ করতে সপরিবার মদিনা যাচ্ছিলেন। তার আগেই শনিবার রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হলো হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী মহম্মদ ইউসুফের (৪৬)। গুরুতর জখম তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউসুফের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
গত কয়েক দিন ধরেই সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে উমরাহ করতে সৌদি আরবে পৌঁছন ইউসুফ। শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ তাঁরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চেক ইন কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ে ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি মিসাইল আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
মুহূর্তের মধ্যে ছুটে আসে উদ্ধারকারী দল। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। সৌদি আরবের দাবি, হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৩০০-র বেশি। ওই ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ ইউসুফও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিসাইল হামলায় ইউসুফ তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইউসুফের।
রিয়াধ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউসুফের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁর এক ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইউসুফের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘রিয়াধে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। পরিবারকে আমার আন্তরিক সমবেদনা। দূতাবাসের তরফে সব রকমের সাহায্য করা হবে।’
ইউসুফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসও। তাঁর দেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে। এ দিকে শনিবারের ঘটনার পরে রবিবারও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই নাশকতাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়েছে সৌদি আরব।
