সাইবার প্রতারণা এখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছেই মূর্তিমান আতঙ্ক। ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে ‘সিরিয়াসিম’ নামের সাইবার গ্যাং। সমাজমাধ্যমে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা ‘সাইবারপাল্স৫৬’-র পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এছাড়া ব্যাঙ্কের বা সরকারি সংস্থার ভুয়া ইমেল বা ওয়েবসাইট পাঠিয়ে তথ্য চুরি, ফোন কল বা এসএমএসের মাধ্যমে ‘ওটিপি’ বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য চেয়ে টাকা লোপাট, ক্ষতিকর সফটওয়্যার পাঠিয়ে কম্পিউটার বা মোবাইল হ্যাক করার মতো অজস্র ঘটনা ঘটছে চারপাশে। যত সময় যাচ্ছে, ততই নিত্যনতুন প্রতারণার ছক তৈরি করে সাধারণ মানুষ ও শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়ে তুলছে সাইবার অপরাধীরা। নানাভাবে সতর্ক করেও বিপদ থেকে পুরোপুরি রেহাই দিতে পারছে না পুলিশ-প্রশাসন।
এর মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে ‘পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক’ (পিএনবি)। তাদের দাবি, প্রতারকরা এখন ‘এআই ভয়েস ক্লোনিং’ এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রিয়জন বা বন্ধুদের হুবহু কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করছে। এরপর কোনও ‘জরুরি পরিস্থিতি’-র অজুহাত দেখিয়ে হঠাৎ ফোন করে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে টাকা দাবি করছে। ব্যাঙ্কের বার্তা, শান্ত হয়ে আগে প্রিয়জন বা বন্ধুর ‘আসল’ নম্বরে ফের কল করে সত্য যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি, ‘এআই’ প্রযুক্তি কণ্ঠস্বর নকল করতে পারলেও পরিবারের গোপন কথা বা ‘কোড ওয়ার্ড’ নকল করতে পারে না। তাই পরিবার, পরিজন ও বন্ধুদের মধ্যে গোপন কোড নির্ধারণ করে রাখলে পরস্পরের পরিচয় যাচাই করতে সাহায্য করবে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তির এই নয়া বিপজ্জনক ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।
কিন্তু সব সতর্কতা মেনে নিয়েও যে বিপদ থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলবে, তার নিশ্চয়তা
কোথায়? ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি যেমন মানুষের কাজ সহজ করছে, ঠিক তেমনই এর অপব্যবহার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। কণ্ঠস্বর নকল করে ব্ল্যাকমেল করা, শত্রুতা করে সামাজিক হেনস্তা, রাজনৈতিক নেতাদের মুখে কথা বসিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিপফেক এত নিখুঁত হচ্ছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে ‘আসল’ এবং ‘নকল’-এর পার্থক্য বোঝা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার, অপরাধীরা এখন কোনও সত্যিকারের ভিডিও বা অডিও প্রমাণকেও ‘এআই’ দিয়ে তৈরি বা ‘ডিপফেক’ বলে ছাড়া পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তির এই নয়া বিপজ্জনক ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। কিন্তু সেই সক্ষমতা বা সাধ্য এবং উপায় কি আমজনতার হাতে রয়েছে? প্রশাসনিক স্তরে, আইন তৈরি করে যেমন এই বিপদ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে, তেমনই পাল্টা প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের অস্ত্র ভোঁতা না করলে কোনও দিনই পুরোপুরি স্বস্তি মেলা সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এক্ষেত্রে গত্যন্তর নেই।
