কালবেলা · জলবায়ু
আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি বাপার
১৩/১০/২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন আগারগাঁওয়ের উন্মুক্ত স্থানে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপনার ঐতিহ্য, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, যানজট এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবন ও এর পারিপার্শ্বিক পরিসরের পরিকল্পনা করা হয়। প্রায় ছয় দশক পর ওই এলাকায় বহুতল ভবনসমৃদ্ধ একটি বৃহৎ সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগের যৌক্তিকতা বর্তমান নগর বাস্তবতা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ চাহিদার আলোকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
বাপা জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ভবনটির স্থাপত্যিক স্বাতন্ত্র্য শুধু মূল স্থাপনার নকশায় সীমাবদ্ধ নয়। এর চারপাশের উন্মুক্ত পরিসর, সবুজ প্রান্তর, জলাধার, দৃশ্যমানতা, ভবনের উচ্চতা এবং সামগ্রিক ভূদৃশ্যের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ওই এলাকায় নতুন বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সংসদ ভবনের স্থাপত্যিক প্রাধান্য, দৃশ্যগত ভারসাম্য ও ঐতিহ্যগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলছে, সংসদ ভবন ও এর পারিপার্শ্বিক স্থাপত্যিক পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে বিদ্যমান আইন, ইমারত নির্মাণবিধি এবং নগর পরিকল্পনার নির্দেশনার সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্নসম্পদ আইন, ১৯৬৮, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ এবং ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০২২-২০৩৫-এ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও এলাকা সংরক্ষণের বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত সচিবালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব বিধান, ভূমি ব্যবহার, ভবনের উচ্চতা, দৃশ্যগত প্রভাব এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে বাপা।
বিবৃতিতে উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাপা বলছে, ঢাকা মহানগরে উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ ও সবুজ পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান বা সম্ভাবনাময় গণপরিসরকে বৃহৎ প্রশাসনিক স্থাপনায় রূপান্তর করা হলে নাগরিকদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।
উন্মুক্ত স্থানকে শুধু অব্যবহৃত জমি হিসেবে বিবেচনা না করে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশগত ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে হবে বলে জানায় বাপা।
আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের ফলে যানজট ও নগর অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগারগাঁও ও রোকেয়া সরণি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য নগর কার্যক্রম বেড়েছে। সেখানে বৃহৎ প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা ও যানবাহনের চলাচল বাড়বে। এতে সড়ক যোগাযোগ, গণপরিবহন, পথচারীদের চলাচল এবং আশপাশের নগরজীবনে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ যানবাহন চলাচল প্রভাব সমীক্ষা এবং সমন্বিত নগর পরিবহন সমীক্ষা পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বাপা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗