শারদীয় উৎসবের রঙিন আমেজে যখন মেতে রয়েছে কলকাতা, ঠিক তখনই এক ভিন্ন চিত্র উঠে এল বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। সোমবার মহাসপ্তমীর দিনটিতে বামাতি বইয়ের স্টল ভাঙচুর ও হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। উৎসবের মৌসুমে এমন অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী সমাজ। এই বিশৃঙ্খলার পেছনে কাঠগড়ায় উঠেছে রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং বজরং দল, যা নিয়ে এখন সরগরম দুই বাংলার বুদ্ধিজীবী মহল।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও জোরালো বার্তা দিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যাদবপুরে স্টল সরাতে বুলডোজার চালানোর হুমকি এবং বাগুইআটিতে বই খালের জলে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি লেখেন, এই ধরনের ঘটনা যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্যই বেদনাদায়ক।
তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বামপন্থীদের রাজনীতির সঙ্গে সকলের মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাদের আদর্শের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার সবার রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কারো বই বিক্রি বা মানুষের বই পড়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতার আসল পরীক্ষা তখনই হয়, যখন সেই মতটি নিজের অপছন্দের হয়। পুজো মানে কেবল প্রতিমা দর্শন নয়, বরং নতুন বই আর সাহিত্যের সুবাস গ্রহণ করাও এই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
লেখিকার এই সাহসী ও নিরপেক্ষ অবস্থানের পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। তসলিমার পোস্টে মন্তব্য করে এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, শিক্ষার সঙ্গে যাদের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই, তারাই কেবল এমন বর্বর আচরণ করতে পারে। অন্য আরেক অনুরাগী লেখেন, পৃথিবীর কোনো মৌলবাদই সংস্কৃতির বন্ধু হতে পারে না। সব মিলিয়ে, বইয়ের স্টল ভাঙচুরের এই ঘটনা কলকাতার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বাকস্বাধীনতার ওপর একটি বিরাট ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
