কুষ্টিয়া: ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় বিশিষ্ট কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘লালনবাদ বলে কোনো বাদ নেই, সবই গুরুবাদ।’
তিনি বলেন, লালনকে বাউল হিসেবে পরিচিত করার প্রবণতা বন্ধ করতে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। লালনের কোনো গানে ‘বাউল’ শব্দ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘বাউল’ নয়, লালনকে বুঝতে হলে ফকিরদের সঙ্গে বসতে হবে।
লালন একাডেমিতে লালনগীতির কথা ও সুর পরিবর্তন করে পরিবেশনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, একাডেমিতে এ ধরনের পরিবর্তন করার অধিকার নেই। আগের দিন অনেক গানের কথা ও সুর পরিবর্তন করে পরিবেশন করতে শুনেছি ৷ লালনের সংগীত নিয়ে আরও গবেষণা করার প্রয়োজন৷
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফরিদা পারভীনকে নিয়েও কথা বলেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ফরিদা পারভীন আগে লালনগীতি পল্লীগীতির সুরে গাওয়া হতো। অনুষ্ঠানে ফরিদা আক্তারকে সম্মানিত করা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাকে সম্মানিত করা না হওয়ায় নিজের বক্তব্য তাকে উৎসর্গ করছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল্লাহ হারুন।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার।
আলোচনা সভা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশের বরেণ্য লালনসংগীত শিল্পীরা ফকির লালন শাহের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তার অনুসারীরা এবং পরবর্তী সময়ে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন প্রতিবছর তার তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।
