Published on
:
2 min read
‘রেন্ট আ বয়ফ্রেন্ড’ অর্থাৎ, ‘আপনার কি বয়ফ্রেন্ড লাগবে?’ এমন বিজ্ঞাপন কি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার চোখে পড়েছে? যদি পড়ে থাকে, তা হলে এমন বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক হন। কারণ, ভার্চুয়াল প্রেমের বিজ্ঞাপনী চমকে ভয়ঙ্কর সাইবার ফাঁদ। উৎসবের মরশুমে এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সাইবার সুরক্ষা বিভাগও।
নিঃসঙ্গতা ঘোচানো কিংবা কোনও পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সাময়িক ভাবে একজন যোগ্য সঙ্গী নিয়ে হাজির হওয়া— আধুনিক নাগরিক জীবনের এই চাহিদাগুলোকে পুঁজি করে সমাজমাধ্যমে রমরমিয়ে বাড়ছে এক নতুন ফাঁদ। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক স্ক্রোল করলেই আজকাল চোখে পড়ে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন, ‘রেন্ট আ বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘ঘণ্টার চুক্তিতে পুরুষ সঙ্গী ভাড়া পাওয়া যায়’। আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ বিনোদন বা আধুনিক ট্রেন্ড মনে হলেও এই বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিঃশব্দে জাল বিছিয়ে রেখেছে আন্তর্জাতিক সাইবার মাফিয়া ও ব্ল্যাকমেলার চক্র। নাগপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক নাবালিকার ঘটনা এই বিপদের তীব্রতাকে প্রকাশ্যে এনেছে, যেখানে সমাজমাধ্যমে তৈরি হওয়া ছদ্ম পরিচয়ের এক ফাঁদে পা দিয়ে অন্তরঙ্গ ছবি পাঠানো এবং শেষ পর্যন্ত ভিনরাজ্য থেকে এসে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের চরম শিকার হতে হয়েছিল সেই মেয়েটিকে।
এক্ষেত্রে প্রতারকরা মূলত ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম কিংবা ফেসবুকের দেওয়ালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি সুপুরুষ মুখের ছবি ও ভুয়ো পরিচয় সাজিয়ে রাখে। বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে কোনও তরুণী বা মহিলা যোগাযোগ করলেই শুরু হয় কথোপকথন। অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি খুব দ্রুত অতিরিক্ত সহানুভূতি ও মিষ্টি কথায় এক কৃত্রিম নির্ভরতার বাতাবরণ গড়ে তোলে। তবে লক্ষণীয় বিষয়, সম্পর্কের নামমাত্র ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলেও তারা কখনওই সরাসরি ভিডিয়ো কলে মুখ দেখাতে চায় না, বা ক্যামেরা ও নেটওয়ার্কের অজুহাত দেখিয়ে আসল চেহারা আড়াল করে রাখে। কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বাস অর্জন করে প্রেমের নাটকে ভুক্তভোগীকে নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা গোপনীয় ভিডিয়ো পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়। আর একবার সেই সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য তাদের হাতে গেলেই শুরু হয় লাগাতার ব্ল্যাকমেলিং। শুধু তা-ই নয়, সার্ভিস বুকিং কিংবা বিশেষ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে অনেক সময়ে এপিকে ফাইল বা সন্দেহজনক লিঙ্ক পাঠানো হয়, যাতে ক্লিক করা মাত্রই ব্যবহারকারীর ব্যাঙ্কিং তথ্য ও ডিভাইসের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের কবলে।
ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এই ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার। প্রথমত, সামাজিক মাধ্যমে অপরিচিত কোনও অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, পরিবারের তথ্য, বাড়ির ঠিকানা বা দৈনন্দিন গতিবিধি কোনও ভাবেই ভাগ করা যাবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে আতঙ্কে চুপ করে থাকা বা অপরাধীর দাবি মেনে টাকা দেওয়া কোনও সমাধান নয়। এ ধরনের ফাঁদে পা পড়লে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ যোগাযোগ করা উচিত এবং কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে তথ্যপ্রমাণ সহ দ্রুত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা কর্তব্য। ডিজিটাল জগতের আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকা এই নতুন অপরাধ রুখতে আইনের কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাই পারে চরম ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।
হিমাদ্রি সরকার
