বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর নতুন করে হুমকি দিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করেছে গ্যাংটির সদস্য পরিচয় দেওয়া অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নামের দুই ব্যক্তি। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর পোস্টটি দেওয়া হয়। এতে দাবি করা হয়, হামলার আগে ফোন করে টাইগারকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। এরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন পোস্টদাতারা।
পোস্টে হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশ অমান্য করে যারা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে। টাইগার শ্রফের মতো পরিণতি অন্যদেরও হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার দায় নিজেদের বলে দাবি করতে পারে, এমন প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখতে ১২টি বিশেষ দল কাজ করছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারাগারে থাকা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা থেকে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র বলে বিবেচিত। এ ঘটনায় সালমানকে ক্ষমা চাইতে বলে ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন লরেন্স বিষ্ণোই।
২০২৪ সালে সালমানের ঘনিষ্ঠজনদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনায় এই বিরোধ আবারও আলোচনায় আসে। ওই বছরের অক্টোবরে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই বছর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়।
এরপর বলিউডের অন্য ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে করা দাবিগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এমএম/
