টঙ্গী বেক্সিমকো রোডে নামে পরিচিত এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় চারতলা কারখানার চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাতের কথা প্রচার করা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ছাদ থেকে আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর পৌনে ২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি এবং সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দমকল বাহিনীর কর্মীরাও কাজ করেন। এ ঘটনায় এক ফায়ার ফাইটারসহ দু’জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ফায়ার ফাইটার আবুল কালাম (৩৫), কারখানার শ্রমিক সাদেক হোসেন (৩৮)। আহত ফায়ার ফাইটার আবুল কালামকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে এবং আহত কারখানা শ্রমিক সাদেক হোসেনকে টঙ্গী ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (ডিজি) জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কারখানায় কেমিক্যাল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিল। যা বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ করতে বৃহস্পতিবার পুরো দিনও কাজ করতে হতে পারে। টঙ্গী, গাজীপুর চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর, ঢাকার উত্তরা, মিরপুর ফায়ার সার্ভিস, কুর্মিটোলা ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের মোট ২০টি এবং সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট কাজ করে দুপুর ২দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে হঠাৎ ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার চতুর্থ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুর্হূতের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও কারখানার আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আরও ১৮টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে কাজ করে দুপুর পৌনে ২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, ‘ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ও সেনাবাহিনীর ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর পৌনে ২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
