দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪২তম ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। আফগানরা ইনিংসের ১২০ রান তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার যাবতীয় সমীকরণ শেষ হয়ে যায়। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে রহমত শাহর দল।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল, যেখানে চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান ছাড়া কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন গড়েন ৯৩ রানের জুটি। ইমন ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ এবং সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছাতে না পারায় ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট; এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন দুটি করে উইকেট।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই আফগানদের চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) ও সেদিকউল্লাহ অটলকে (৪) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন ইব্রাহিম জাদরান ও অধিনায়ক রহমত শাহ। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে ইব্রাহিমকে ফেরান শান্ত। তবে এরপর নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাকি পথ পাড়ি দেন রহমত।
বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দুই অপরাজিত আফগান ব্যাটার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক রহমত শাহ। অন্যদিকে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ২টি এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট লাভ করলেও তা দলের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
