দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, গত ১৫ অক্টোবর কাতারের
দোহায় হান্নান গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে খবর পাওয়ার পর রবিবার বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোল থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় দুদক।
তিনি জানান, হান্নানকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে হান্নানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে হান্নানের ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগেও তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি সংস্থাটির।
এসব অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ হান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়। বর্তমানে এ মামলার তদন্ত চলছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে কাতার, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের সম্পদের তথ্য চেয়ে চলতি বছর ২৩ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেয় দুদক। ২১ জুন পুলিশের এনসিবি শাখাকেও চিঠি পাঠানো হয়। আদালতের আদেশে হান্নান ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব সম্পদ দেখভালের জন্য রিসিভার নিয়োগের পাশাপাশি হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ অন্য অভিযুক্তদের দেশে ফেরানোর অগ্রগতি সম্পর্কে দুদক সচিব জানান, এ বিষয়ে দুদকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। কাতার, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
