কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অননুমোদিত ও ভূয়া বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের কথিত ‘হেলস্টোন ইউনিভার্সিটি’ (Helstone University) থেকে অর্জিত অনলাইন ‘এমডি কার্ডিওলজি’ ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে— মর্মে সম্প্রতি কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত চিকিৎসক কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে শিক্ষা গ্রহণ না করে যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘হেলস্টোন ইউনিভার্সিটি’ থেকে অর্থের বিনিময়ে অনলাইনের মাধ্যমে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউকে-এর স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় উক্ত নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই। মূলত এটি একটি অনলাইনভিত্তিক সনদ বিক্রির প্ল্যাটফর্ম। হৃদরোগের মতো জটিল বিষয়ে এমন সনদ ব্যবহার করে নিজেকে কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করায় সাধারণ রোগীরা বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, অভিযোগের পর সিভিল সার্জনের গঠিত তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনলাইনে নেওয়া ওই এমডি কার্ডিওলজি ডিগ্রিটিকে বিএমডিসি অনুমোদনহীন ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং প্রেসক্রিপশনে উক্ত ডিগ্রি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনিক নির্দেশনার পরও উক্ত অননুমোদিত ডিগ্রি ব্যবহার অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, "আমি ইউকে থেকে এমডি কার্ডিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেছি। সিভিল সার্জন যখন চিঠি দেন তখন সার্টিফিকেট ছিল না, এখন আমার কাছে সার্টিফিকেট আছে। বিএমডিসি আমার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার রাখে। কুড়িগ্রামে আরও অনেকেই ডিগ্রি ছাড়া নামের পাশে তা ব্যবহার করছেন।"
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার জানান, তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে প্রশাসনিক পত্র দেওয়া হয়েছে। বিএমডিসি-র নিয়ম মেনে ডিগ্রি ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "যতক্ষণ বিএমডিসি অনুমতি না দেবে, ততক্ষণ ডা. সালামের এমডি কার্ডিওলজি (যুক্তরাজ্য) ডিগ্রি ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।"
চিকিৎসা পেশার সংবেদনশীলতা এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
