আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রাক্তন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সতীর্থ বিরাট কোহলিকে নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডিসিভিলিয়ার্স। এক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স স্বীকার করেছেন, প্রথম দিকে বিরাট কোহলিকে তাঁর বেশ অহংকারী এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা বদলে যায় এবং কোহলি একজন অনেক বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ডি ভিলিয়ার্স জানান, কোহলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সময় ভারতীয় তারকা ছিলেন বয়সে অনেকটাই ছোট। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই আত্মবিশ্বাস কখনও কখনও অন্যদের কাছে ঔদ্ধত্য বা অহংকার বলে মনে হতে পারে। ডি'ভিলিয়ার্সের ক্ষেত্রেও প্রথমে সেটাই হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে ডি'ভিলিয়ার্স বলেন, 'ওর আত্মবিশ্বাস সবসময়ই অনেক বেশি ছিল। ক্রিকেটও সেইভাবেই খেলেছে। কখনও কখনও সেটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। প্রথম দেখায় ওকে আমার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। ১৯, ২০ বা ২১ বছর বয়সে ও ভীষণ আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ ছিল। কেরিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলছি। তবে বড় সাফল্য পেতে এমন আত্মবিশ্বাসও প্রয়োজন। নিজের সামর্থ্যের ওপর সত্যিই বিশ্বাস রাখতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু সেই আত্মবিশ্বাসকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেটাই শিখতে হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, একজন মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে আরও পরিণত হওয়ার পর সেই বিষয়টা অনেকটাই বদলে যায়। আমার মনে হয়, তরুণ বয়সে ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই তাগিদও কমে যায়।ধীরে ধীরে সেই পরিবর্তন এসেছে।'
প্রাক্তন প্রোটিয়া তারকা জানান, কোহলি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তাঁকে প্রথম দেখায় অত্যধিক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, বড় সাফল্য অর্জনের জন্য এইধরনের আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। তিনি মনে করেন, অল্প বয়সে কোহলির সামনে নিজেকে প্রমাণ করার প্রবল তাগিদ ছিল। সেই কারণেই তাঁর আচরণে এক ধরনের তীব্র আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পেত। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের মাধ্যমে কোহলি ধীরে ধীরে আরও সংযত এবং পরিণত হয়ে ওঠেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার পরে কোহলির মধ্যে সেই অতিরিক্ত আত্মপ্রমাণের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে তাঁর ব্যক্তিত্বেও এসেছে ভারসাম্য। আজকের কোহলি আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। আইপিএলে আরসিবির হয়ে একসঙ্গে খেলতে খেলতেই ডিসিভিলিয়ার্স এবং কোহলির বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট জুটি হিসেবে দু'জনের সম্পর্ক আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
