পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকার মহাখালী রুটে ২৫০টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
আজ রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুজ্জামান বাবুল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের নানা সমস্যা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ২৫০টি দূরপাল্লার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।
কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকার মহাখালী রুটে অনন্যা সুপার, অনন্যা ক্লাসিক, জলসিঁড়ি ও উজান-ভাটি পরিবহনের বাস চলাচল করে।
আজ বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরের সামনে কথা হয় যাত্রী অপু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি কটিয়াদী যাব। দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি, কিন্তু বাস নেই। এখন সাড়ে ৩টা বাজে। কখন যেতে পারব, আর কখন ফিরব, জানি না।’
পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন মোহাম্মদ শামীম। তিনি বলেন, ‘সরাসরি যাওয়ার বাস নেই। এখন সিএনজি দিয়ে যেতে হবে। দ্বিগুণ খরচ হবে।’
একই বাসস্ট্যান্ডে লোকাল বাস ‘পথের সাথী’ ও ‘রাজদূত পরিবহনের’ কাউন্টার ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় তাদের বাসে যাত্রীর চাপ বেড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন, কিশোরগঞ্জের বাসমালিকরা পুরোনো বাস সরিয়ে নতুন বাস চালু করেছেন। কিন্তু ঢাকার মালিকরা তাদের অংশের পুরোনো বাস পরিবর্তন করতে রাজি হননি। এ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগাম ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ রাখায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। আমার ৫০টি বাসের সবগুলোর কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, পূজার ছুটি শেষে হাজারো মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে ঢাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে বাস না পেয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর যাত্রীসেবার মান বাড়াতে পুরোনো বাসের পরিবর্তে নতুন বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ নিয়েও মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
