Published on
:
2 min read
এই সময়, দুর্গাপুর: বিধায়ক ও পুলিশের আবেদনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্গাপুরে সিংহভাগ গাড়ি পার্কিং প্লেসে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠল। পুজোয় টু-হুইলারের জন্য ১০ টাকা এবং ফোর-হুইলারের জন্য ২০ টাকা পার্কিং ফি নির্ধারণের আর্জি জানানো হলেও বাস্তবে মোটরবাইক প্রতি ২০ টাকা এবং গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এর ফলে দুর্গাপুজোয় বেরিয়ে বেরিয়ে চরম নাজেহাল হয়েছেন সাধারণ দর্শনার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পার্কিং কর্মী বলেন, ‘সবাই বলেছেন পার্কিং ফি কম নিতে। কিন্তু গাড়ি পার্কিংয়ের বরাত নেওয়ার জন্য পুজো কমিটিকে মোটা টাকা দিতে হয়েছে। পার্কিংয়ে কর্মরত কর্মীদের বেতন সমেত আনুষঙ্গিক খরচ আছে। পুজো কমিটিগুলি যদি বরাতের জন্য কম টাকা নিত, তা হলে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আমরাও ১০ ও ২০ টাকা নিতাম। পুজো কমিটির বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বলছে না। সব দোষ পার্কিংওয়ালাদের।’
দুর্গাপুরের বাসিন্দা তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক রণজিৎ গুহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে থানায় অভিযোগ করতে বলেছেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। অতিরিক্ত পার্কিং ফি আদায়ের বিরুদ্ধে স্লিপ হাতে থানায় গিয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করবেন না কি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঠাকুর দেখবেন? তা ছাড়া পুলিশ কোন আইনে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করবে?’ একই সুরে স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা উত্তম অধিকারী জানান, দুর্গাপুরের সেরা ১২টি মণ্ডপ দেখতে গিয়ে বাইক পার্কিংয়ের জন্যই ২৪০ টাকা দিতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে অতিরিক্ত পার্কিং ফি আদায় করার অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে।’ অথচ পুজোর আগে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুবীর রায় ঘোষণা করেছিলেন যে পার্কিংয়ে টু-হুইলার ১০ টাকা এবং ফোর-হুইলার ২০ টাকা নিতে হবে। পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমারের বক্তব্য, ‘কয়েক জায়গা থেকে অতিরিক্ত পার্কিং ফি আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশের তরফে আবেদন করা হয়েছিল ১০ ও ২০ টাকা নিতে।’
