জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার বেশিদিন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে না। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সফল হবে না। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি সংস্কারের বিপরীত পথে যাত্রা এবং সংস্কার ভেস্তে দেওয়ার শামিল। এ কারণে এই কমিটিতে অংশ নেবে না এনসিপি।
শনিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি সরকারের কাছে আবারও জানাতে চান তারা। সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে এবং তারাই সংস্কারের জনক—এমন নানা কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চায়নি। বিষয়টি তখন জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিএনপির মধ্যে সেই প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে। দলটি যেমন ’৯০-এর পর তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চায়নি, তেমনি জুলাইয়ের সংস্কারও বাস্তবায়ন করতে চাইবে না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার বেশিদিন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে না। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে সংবিধান সংশোধনের কথা ভাবলেও জনগণের রায় যেখানে নেই, সেখানে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে কোনোভাবেই অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
আখতার হোসেন আরও বলেন, ১৭ জুলাই জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনে সরকারের প্রতি তাদের স্পষ্ট আহ্বান, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থার পরিবর্তন করে নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে যেতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই এর প্রতিকার করবে।
অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেন বলেন, সংস্কারের যেসব পর্যায় অতিক্রম করা হয়েছে, বিএনপি সরকার সেগুলো পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। তারা প্রকৃতপক্ষে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় না। এ কারণেই জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, গঠিত কমিটিটি একদলীয়। এটি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক সংকটের সমাধানও হবে না। বরং এই কমিটি সংস্কারের বিপরীত পথে যাত্রা এবং সংস্কার ব্যর্থ করে দেওয়ার নামান্তর।
বারবার আহ্বান জানানোর পরও এনসিপি এই কমিটিতে অংশ নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে তাদের বার্তা হলো, একদলীয় এই কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, একজন ব্যক্তির অভিলাষ পূরণ করতে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা এবং নিজেদের সঙ্গেও আত্মপ্রতারণা। বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে আওয়ামী লীগ। দলটি আওয়ামী কাঠামো টিকিয়ে রেখেছে এবং দুর্বল আওয়ামী লীগ হিসেবে টিকে থাকতে চায়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচন নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়। এ কারণেই তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় বিরোধী আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেবে।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএ
