১ ঘণ্টা আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১ ঘণ্টা আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের আদভিভকায় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট সংযোগ চালু করছেন এক ইউক্রেনীয় সেনা। ছবি: রয়টার্স
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনীর ‘স্টারশিল্ড’ স্যাটেলাইট সংযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই সেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বলে খবরে প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন জাগে, কী এই স্টারশিল্ড? কেন এটি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে ইউক্রেনে সেবাটি বিঘ্নিত হয়েছিল। এর কারণ জানতে স্টারশিল্ডের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কিয়েভ।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য স্টারশিল্ডের ওপর নির্ভর করে ইউক্রেন।
ধনকুবের ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ হলো স্টারশিল্ড।
সেবা বিঘ্নিত হওয়ার নেপথ্যে
কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে স্টারশিল্ড ব্যবহার করে এলেও সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আগে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর দেখা যায়নি।
স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এ ঘটনায় তার প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার ইঙ্গিত, একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র সরকারই সেবাটি বিঘ্নিত করতে পারে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন এখনও কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।
স্টারশিল্ড কী?
স্টারশিল্ড হলো স্টারলিংকের সহযোগী সেবা। স্পেসএক্স পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ১১ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকাতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে স্টারলিংকের সেবা চালুর প্রায় তিন বছরের মাথায়, ২০২২ সালে মার্কিন সরকারের প্রয়োজন মেটাতে স্টারশিল্ড চালু করা হয়।
এটি সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী। এতে সংবেদনশীল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য উন্নত এনক্রিপশন সুবিধা রয়েছে। স্পেসএক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থা ও অন্যান্য ‘সরকারি অংশীদার’ ব্যবহার করে।
ইউক্রেনের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী গত কয়েক বছরে স্টারশিল্ডের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন পরিচালনায় এ সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, তারা স্যাটেলাইটভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। দেশটিতে ১০০টির বেশি ড্রোন ও পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, এই হামলার বিষয়ে তিনি অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো সতর্কবার্তা পাননি।
বুধবার মাস্ক এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, সেবাটি ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্টারশিল্ড সেবায় যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নেয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী?
বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করবে বলে ওয়াশিংটন থেকে তিনি হুমকি পেয়েছেন।
জেলেনস্কি দাবি করেন, এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং জেনেশুনে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
জেলেনস্কি এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন।
এরপর ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করলে জেলেনস্কি জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেন।